নারী শিক্ষকের সঙ্গে করমর্দনে দুই মুসলিম কিশোরের অস্বীকৃতি

বিদেশ ডেস্ক
২০ এপ্রিল ২০১৬, ২০:০৬আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৬, ২০:০৮
image

করমর্দনের দৃশ্য শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর হাত মেলানো (করমর্দন) সুইজারল্যান্ডের এক বহুল প্রচলিত প্রথা। তবে সেই প্রথা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডে নাগরিকত্বের প্রত্যাশায় থাকা দুই সিরীয় মুসলিম শরণার্থী কিশোর। আর ইসলামের বিধানকে কারণ দেখিয়ে নারী শিক্ষকের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি না হওয়ায় ওই দুই সিরীয় কিশোরকে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে সুইজারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর আলোচনা জোরালো হয়েছে সুইজারল্যান্ডের ধর্মীয় স্বাধীনতার ইস্যুতে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ওই দুই সিরীয় কিশোর পরস্পরের ভাই। তাদের একজনের বয়স ১৪ বছর এবং আরেকজনের বয়স ১৫। ২০০১ সালে সুইজারল্যান্ডে আশ্রয় পাওয়া এক সিরীয় রাজনৈতিক শরণার্থীর সন্তান তারা। উত্তরাঞ্চলের থেরউয়িল এলাকার শিক্ষাবিষয়ক কর্মকর্তাদের কাছে ওই দুই ভাই মন্তব্য করেন, পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কোনও নারীর সংস্পর্শে আসা ইসলামবিরোধী কাজ। 
আরও পড়ুন: কোহিনূর নিয়ে ভারতের সুর বদল!
তবে শিক্ষা কর্মকর্তারা মনে করেন কেবল নারী শিক্ষকের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানানোটা লিঙ্গ বৈষম্যের মধ্যে পড়ে। সেই বৈষম্য এড়াতে কেবল নারী নয়, ওই দুই ভাইকে পুরুষ শিক্ষকের সঙ্গে হাত মেলানো থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেন তারা। আর তাই শেষ পর্যন্ত নারী পুরুষ নির্বিশেষে সব শিক্ষকের সঙ্গেই করমর্দনের প্রথা থেকে বিরত থাকে ওই দুই কিশোর।

করমর্দনের প্রতিকী ছবি
এ ঘটনার পর মঙ্গলবার ব্যাসেল কাউন্টির কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয় যে দুই কিশোরের পরিবারকে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়ায় এ ধরনের সন্দেহ খুবই সাধারণ বিষয়। কারণ, নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিবারের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবগত থাকতে হয়।
আরও পড়ুন: পানামা পেপারস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কর ফাঁকির তদন্ত শুরু

সুইস রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ ওই দুই শিক্ষার্থী করমর্দন করতে না চাওয়ার ব্যাপারে ক্ষোভ জানিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী সিমোনেত্তা সোমারুগা বলেন, ‘করমর্দন সুইস সংস্কৃতির অংশ।’ তবে সুইস বার্তা সংস্থা লা নিউজকে ওই দুই সিরীয় শরণার্থী বলেছে ‘কেউ আমাদেরকে কারও হাত স্পর্শ করার জন্য জোর করতে পারে না।’ তবে স্থানীয় নাগরিকত্বের বিষয় নিয়ে কাজ করা সুইস কমিশনের প্রেসিডেন্ট জর্জ থারিং মনে করেন, করমর্দন না করার সঙ্গে নাগরিকত্ব পাওয়া-না পাওয়ার কোনও সম্পর্ক নাই। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি করমর্দন ইস্যুতে নাগরিকত্ব না দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান করলেও কমিশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ৮০ লাখ জনসংখ্যার দেশ সুইজারল্যান্ডে সাড়ে তিন লাখ মুসলিম বসবাস করেন। সূত্র: আল জাজিরা

/এফইউ/বিএ/

সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম