পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগালে দাঙ্গা পুলিশ এবং বিরোধী নেতা উসমানে সোনকোর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শুক্রবার ভোরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোইন ফেলিক্স আবদুলায়ে দিওম এ তথ্য জানান।
সেনেগালের বিরোধীনেতা উসমানে সোনকোকে বৃহস্পতিবার দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। ধর্ষণ ও যুবকদের ভুল পথে চালিত করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় অভিযোগে জেল হয়েছে তার। এতে আগামী বছরে প্রেসিডেন্ট পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভে নামে সোনকোর অনুসারীরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওম বলেন, ‘আমরা দুঃখজনক সহিংসতা দেখেছি রাজধানী ডাকারসহ বেশ কয়েকটি শহরে। এতে সরকারি এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ডাকার এবং জিগুইঞ্চোরে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।’
সরকারের মুখপাত্র আবদু করিম ফোফানা বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
নেটব্লকস ইন্টারনেট অবজারভেটরি বলছে, সহিংসতার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সেনেগালজুড়ে সোশাল মিডিয়া এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের গতি কমিয়ে দিয়েছে সরকার।
Senegal court acquits leading opposition figure and presidential aspirant Ousmane Sonko of rape charges and death threats, but sentences him to two years in jail for "corrupting youth"
— TRT World Now (@TRTWorldNow) June 1, 2023
বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার সময় প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সালের প্রতিপক্ষ সোনকো অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বিচারেও অংশ নেননি। রায়ের সময় সোনকো তার ডাকার বাড়িতে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বাড়িতে সপ্তাহান্তে আটক হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী তাকে অবরুদ্ধ করেছিল।
‘যে কোনও সময়’ সোনকো গ্রেফতার হতে পারেন বলে জানিয়েছেন বিচারমন্ত্রী ইসমাইলা মাদিওর ফল।
বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর পর ডাকারের কেন্দ্রস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি যেন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। দাঙ্গা পুলিশকে পাথর ছুঁড়ে মারলে সমর্থকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পড়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।
সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগ, ইতিহাস বিভাগ ভাঙচুরের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়, ভাংচুর করা হয় অফিস। উদ্ভূত পরিস্থিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শহরের অনেক জায়গায় বাস কাউন্টারসহ বিভিন্ন পাবলিক সম্পত্তিতে হামলা চালায় সোনকোর অনুসারীরা। এ সময় টায়ার পুড়িয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে তারা।
এ ছাড়া দক্ষিণে কাসামান্স, পশ্চিমে এমবোর এবং কাওলাক এবং উত্তরে সেন্ট-লুইতেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড








