দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আসার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে গ্রেফতার করা হলে তা হবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য। মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার আদালত থেকে প্রকাশিত নথিতে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার এই মন্তব্য রয়েছে। এমন সময় তার এই মন্তব্য প্রকাশিত হলো যখন রুশ নেতাকে আতিথেয়তা জানানো নিয়ে দেশটিতে বিতর্ক চলছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
জুন মাসে স্বাক্ষরিত এই হলফনামা মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি ‘গোপনীয়’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। আদালত নথিটি প্রকাশের রায় দেওয়ার পর এগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।
আগামী মাসে জোহানেসবার্গে ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের জন্য পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)-এর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে পুতিন সফরে আসলে তাকে গ্রেফতার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে দেশটির ওপর।
পুতিনের সফর নিয়ে দেশটির চলমান বিতর্ক আদালতে গড়িয়েছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স চেষ্টা করছে যাতে রুশ নেতাকে আটক করে আইসিসির হাতে তুলে দেয় সরকার।
কিন্তু আদালতে দাখিল করা এক হলফনামায় রামাফোসা দলটির আবেদনকে দায়িত্বজ্ঞানহীন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন পদক্ষেপ নিলে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। তিনি বলেছেন, রাশিয়া স্পষ্ট করে বলেছে তাদের প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করা হবে যুদ্ধ ঘোষণা। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি নেওয়া আমাদের সংবিধানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হবে।
পুতিন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে এখনও রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে ২০১৩ সালের মতো এবারও তিনি ১৫তম ব্রিকস সম্মেলেন অংশগ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ১৭ মার্চ পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। তবে এই গ্রেফতারি পরোয়ানাকে অর্থহীন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ক্রেমলিন।









