দক্ষিণ আফ্রিকা তার মিত্র রাশিয়ায় অস্ত্র সরবারহ করছে বলে অনেকদিন থেকেই গুঞ্জন রয়েছে। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, ‘একটি স্বাধীন তদন্তে রাশিয়ায় অস্ত্র পাঠানোর কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ধরনের অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।’
২০২২ সালের ডিসেম্বরে একটি রুশ পতাকাবাহী জাহাজকে দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দরে অবস্থান নিতে দেখা যায়। জাহাজে অস্ত্র তুলে দেয় দ. আফ্রিকা। এরপর রাশিয়ার দিকে রওনা হয় জাহাজটি। এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে তলব করে ওয়াশিংটন। যা নিয়ে তদন্ত চলে অনেকদিন। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ চলা অবস্থায় মস্কোকে এমন সহায়তা নিয়ে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন উঠে।
প্রেসিডেন্ট রামাফোসা রবিবার টেলিভিশনে ভাষণে বলেছেন, ‘এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তার দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তদন্ত দল জাহাজটি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে দ. আফ্রিকা থেকে অস্ত্র পরিবহন করেছে কোনও প্রমাণ পায়নি। অস্ত্র রফতানির জন্য কোনও অনুমোদনও দেওয়া হয়নি।
তদন্তে দেখা গেছে, অস্ত্র নিয়ে রাশিয়ার কার্গো জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে যায়। যা ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি সাইমন টাউনে রাশিয়ার পতাকা লাগানো একটি জাহাজ এসে দাঁড়ায়। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় সেখানে দাঁড়ানোর কথা নয় জাহাজটির। ট্রাকে করে অস্ত্র জাহাজে ভর্তি করেছে বলে জোরালো দাবি করেন দ. আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন সিরিল রামাফোসা। তদন্তের উপসংহারে এসে তিনি বলেছেন, কোনও প্রমাণ ছাড়া আমাদের দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ কেউ তুলতে পারে না।
ইউক্রেন যুদ্ধে কোনও পক্ষ নেয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। কিয়েভের পক্ষ নিতে দেশটির সরকারের চাপ আসে পশ্চিমাদের থেকে।
সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা









