নাইজেরিয়ার মাকোকোতে উচ্ছেদ অভিযান, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৩১আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৩১

নাইজেরিয়ার বৃহত্তম শহর লাগোসের উপকূলীয় মাকোকো ভাসমান বসতিতে সরকারি উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হাজারো বাসিন্দা ঘরহারা হয়ে পড়েছেন। ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদে শত শত বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, ফলে বহু পরিবার রাতারাতি আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে প্রতিবাদ দমন করেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। 

সরকারের দাবি, উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িঘর সরানো হয়েছে এবং বাসিন্দাদের ১০০ মিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়েছিল। তবে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থাগুলোর মতে, নির্ধারিত সীমার অনেক ভেতরে, প্রায় ২৫০ থেকে ৫০০ মিটার পর্যন্ত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়েছে এবং দুই শিশুসহ অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

“আফ্রিকার ভেনিস” নামে পরিচিত মাকোকো উনবিংশ শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক জেলে পল্লি, যেখানে প্রায় দুই লাখ মানুষ বসবাস করে। শহরের বাজারে মাছ সরবরাহের মাধ্যমে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। দারিদ্র্য ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে এলাকাটি বস্তি হিসেবে পরিচিত হলেও এর স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও জলপথভিত্তিক জীবনযাপন পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই উচ্ছেদে মানুষের জীবিকা, শিশুদের শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন। সমালোচকদের মতে, সরকার পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণের কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই অভিযান চালিয়েছে, যা দেশটির সংবিধানের পরিপন্থী।

তবে লাগোস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বলেছেন, পুরো মাকোকো উচ্ছেদ করা হচ্ছে না; সেতু ও বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নির্দিষ্ট এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে। এদিকে কর্মীরা দাবি করছেন, এলাকাটি মূল্যবান জলসীমায় অবস্থিত হওয়ায় বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পের পথ তৈরিই প্রকৃত উদ্দেশ্য হতে পারে।

সম্প্রতি প্রাদেশিক আইনসভা ও সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে, যাতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন এবং মাকোকোতে পুনর্গঠন প্রকল্প নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবুও উচ্ছেদ হওয়া বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

/এমবিএম/
সম্পর্কিত
ইরান ও লেবাননে একসঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হতে হবে: আরাঘচি
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
সর্বশেষ খবর
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি