যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে পুলিশ কর্মকর্তার হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক নারী নিহত হয়েছেন। বেটি জোনস (৫৫) নামের ওই নারী পাঁচ সন্তানের জননী। একই ঘটনায় কুইনটোনিও লেগরিয়ের (১৯) নামে তার এক প্রতিবেশিও নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার সকালে শিকাগোর ওয়েস্ট গারফিল্ড পার্ক এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরইমধ্যে শিকাগোর মেয়র এবং পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনার পূর্ণ তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুলিশ কর্মকর্তা তার অস্ত্র বের করতে বাধ্য হন এবং দুইজন গুলিবিদ্ধ হন।
গত মাসে শিকাগোতে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সেখানে এর প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ঘটনার পর নতুন করে এ ধরনের প্রাণহানি এটাই প্রথম।
শনিবারের ঘটনার সূত্রপাত মূলত নর্দার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটির ছাত্র কুইনটোনিও লেগরিয়েরকে নিয়ে। বাবার সঙ্গে বড়দিন কাটাতে তিনি শিকাগোতে এসেছিলেন। কোনও কারণে বাবা-ছেলের মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়। লেগরিয়ের একটি বেইসবল ব্যাট নিয়ে বাবাকে শাসাতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে বাইরে থেকে এক ব্যক্তি পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার পর সেখানেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন কুইনটোনিও লেগরিয়ের।
এদিকে ঘটনাচক্রে ঘরের কাঠের দরজা ভেদ করে একই বাড়ির নিচতলার বাসিন্দা বেটি জোনসের গায়েও গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বেটি। ঘরের দেয়াল আর কার্পেটে রক্তের দাগের মধ্যেই বিলাপ করছিলেন বেটি জোনসের স্বজনরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোন পুলিশ সদস্য আহত হননি।
শিকাগোর সিটি মেয়র রাম ইমান্যুয়েল জানিয়েছেন, এরইমধ্যে এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, যে কোনও সময় একজন কর্মকর্তার শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে জনগণ জানতে চায়। এক্ষেত্রেও সেটা ঘটেছে। শহরে প্রাণহানির ঘটনায় আমরা শোকাহত।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের একটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৬৫ জন বেসামরিক নাগরিক। অস্ত্র বহন, আত্মঘাত, মানসিক বিকৃতি কিংবা পালানোর চেষ্টার অভিযোগে তাদের হত্যা করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হচ্ছে বলে মনে করা হলেও সে হার আদতে মোট নিহতদের মাত্র চার শতাংশ।
নিহতদের মধ্যে ৯০ জন ছিলেন একেবারেই নিরস্ত্র। ৫৬৪ জনের কাছে একটি করে বন্দুক ছিল। আর ২৮৩ জনের কাছে একাধিক অস্ত্র ছিল। নিরস্ত্র ৯০ জনের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গের হার ৪০ শতাংশ।
ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, মার্কিন পুলিশি হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনাকে তারা যেভাবে একত্রিত করেছে তা এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কোনও সংস্থা করতে পারেনি। ২০১৪ সালের আগস্টে ফার্গুসনে পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ মাইকেল ব্রাউন নিহত হওয়ার পর প্রকল্পটি হাতে নেয় ওয়াশিংটন পোস্ট। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, পুলিশ রিপোর্ট, স্থানীয় সংবাদ এবং বিভিন্ন সূত্রের বরাতে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।
চলতি বছর পুলিশের গুলিতে যারা নিহত হয়েছে তাদের মধ্যে এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ ২৪৩ জন মানসিক জটিলতায় ভুগছিলেন। আর এইসব মানুষের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনের কাছে অস্ত্র ছিল। গবেষণায় আরও বলা হয়, মানসিক জটিলতায় ভুগতে থাকা এসব মানুষকে যে পুলিশ কর্মকর্তারা হত্যা করেছেন তাদের মানসিক রোগী সামলানোর মতো প্রশিক্ষণ ছিল না। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট।
/এমপি/








