‘এমন আবেগ আগে কখনও দেখিনি’

বিদেশ ডেস্ক
০৪ নভেম্বর ২০২০, ০২:২১আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২০, ০২:২৭

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। মার্কিন সময় সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি। করোনা মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিচ্ছেন আমেরিকানরা। ভোট শুরুর পর অল্প কয়েকটি কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির খবর পাওয়া গেছে। তবে ঐতিহাসিক ভোটার উপস্থিতির এই নির্বাচনে বড় ধরনের কোনও বিঘ্ন ঘটেনি। মঙ্গলবার ভোট শুরু হওয়ার আগেই দেশটির প্রায় ১০ কোটি ভোটার আগাম ও ডাক যোগে দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এবার দেশটির ইতিহাসে ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড হতে পারে।

‘এমন আবেগ আগে কখনও দেখিনি’

‘এমন আবেগ আগে আর কখনও দেখিনি’

হিউস্টনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উৎসাহ চরমে। লাইন ধরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষাতেও তাদের ক্লান্তি নেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এমনই একটি কেন্দ্রে কথা বলেছে একজন ভোটারের সঙ্গে। তিনি ৫০ বছর ধরে হিউস্টনে ভোট দিয়ে আসছেন।

সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় ওই ভোটার জানালেন, ৫০ বছরে হিউস্টনের জনতত্ত্ব কীভাবে বদলে গেছে। তার কথায়, যখন আমি এখানে বেড়ে ওঠি তখন এটি ছিল একেবারে গ্রামীণ এলাকার মতো। এখন এটা অত্যাধুনিক নগর এবং আন্তর্জাতিক। অনেক ধরনের মত ও ধারণা বিরাজ করে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি এবারের ভোট আমাদের গতিপথ বদলে দেবে। এতদিন ধরে এখানে বাস করে আসলেও এমন আবেগ আগে আর কখনও দেখিনি আমি।

‘এমন আবেগ আগে কখনও দেখিনি’

'কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে পুলিশি সহিংসতায় ভোট দিতে আগ্রহ'

মিনেসোটার সেন্ট পল এলাকায় প্রথমবারের মতো ভোট দিতে এসেছেন ২২ বছরের লুইস ম্যাককালেব। তিনি জানান, জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু তাকে ভোট দিতে এখানে নিয়ে এসেছে।

লুইস বলেন, একজন কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে আমেরিকার বসবাসে নিরাপদবোধ করি না। কিন্তু আমি বুজতে পারি অনেক কিছুই পরিকল্পিতভাব করা হচ্ছে। তাই আমাদেরও একইভাবে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। তাই আমি এখানে ভোট দিতে এসেছি। আমি ভোটের অধিকার প্রয়োগ করছি।

তার পরণে থাকা হুডির গায়ে লেখা আমরা নিশ্বাস নেব। এটি তার প্রতিবাদের একটি ভাষা বলে উল্লেখ করেন তিনি। ব্যালটের পেছনে পুলিশি নিপীড়নে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ ও নারীদের নাম লিখে দিয়েছেন বলেও জানালেন তিনি।

‘এমন আবেগ আগে কখনও দেখিনি’

'দীর্ঘ লাইনে প্রত্যাশা করলেও ৫ মিনিটে ভোট দিলাম'

জর্জিয়ার ফুল্টন কাউন্টির আটলান্টার উপকণ্ঠে একটি ভোটকেন্দ্রে সকালে হাজির ব্র্যান্ডন ড্যাভিস নামের ৩৪ বছরের ট্রাক চালক। তিনি ধারণা করছিলেন ভোট দেওয়ার জন্য তাকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে থাকতে হবে। কিন্তু যা ঘটলো তাতে তিনি অবাক হয়ে গেছেন।

ব্র্যান্ডন বলেন, আমি যা ধারণা করছিলাম তা হয়নি। আমি মনে করেছিলাম লাইন দীর্ঘ হবে। কিন্তু ৫ মিনিটের কম সময়ে আমার ভোট দেওয়া শেষ হয়ে গেছে। এটিই সবাইকে বুজতে হবে। যত দেরি হবে বলে ধারণা করছেন ততটা হবে না।

ফুল্টন জর্জিয়ার সবচেয়ে বড় কাউন্টি। আটলান্টা শহরের বেশিরভাগ এলাকাই এই কাউন্টিতে। জুন মাসে প্রাইমারিতে ভোটারদের দীর্ঘলাইন ছিল। অনেককে ভোট দিতে আট ঘণ্টার মতো লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল।

ভোটের জন্য কাউন্টিতে আগাম ভোটের কেন্দ্র এবং অনুপস্থিত ভোটের ব্যালটের কাজ সম্পন্ন করার সামর্থ্যও বাড়ানো হয়। ভোটের দিন দীর্ঘ লাইনের সংখ্যা কমিয়ে আনতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুপুরের আগ পর্যন্ত এসব ব্যবস্থা কাজে আসছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। কাউন্টির নির্বাচনি কর্মকর্তাদের মতে, ফুল্টনের অপেক্ষার সময় ৩০ মিনিটের কম।

ব্র্যান্ডন বলেন, আমাকে যদি ছয় ঘণ্টাও অপেক্ষা করতে হতো আমি ভোট দিতাম।

 

 

/এএ/
সম্পর্কিত
ইরানের বিরুদ্ধে ‘ডি-ডে’র হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, জবাবে আরও বড় হুমকি তেহরানের 
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জ্বালানির দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অঙ্গরাজ্য’ হওয়ার সুবিধা চায় কানাডা: ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ভারত: দীনেশ ত্রিবেদী
রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ভারত: দীনেশ ত্রিবেদী
বহুল আলোচিত নুসরাত হত্যা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল
বহুল আলোচিত নুসরাত হত্যা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল
সমালোচকদের কড়া জবাব ফিফা সভাপতির
সমালোচকদের কড়া জবাব ফিফা সভাপতির
পুরনো স্বৈরাচারী কায়দায়ই ফিরে যাচ্ছে সরকার: নাহিদ ইসলাম
পুরনো স্বৈরাচারী কায়দায়ই ফিরে যাচ্ছে সরকার: নাহিদ ইসলাম
সর্বাধিক পঠিত
খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনে জড়িতদের যেভাবে ধরলো পুলিশ
খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনে জড়িতদের যেভাবে ধরলো পুলিশ
জেলেদের সঙ্গে ট্রলারেই দুপুরের খাবার খেলেন প্রতিমন্ত্রী
জেলেদের সঙ্গে ট্রলারেই দুপুরের খাবার খেলেন প্রতিমন্ত্রী
৩ দেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা সাবেক ভারতীয় কূটনীতিককে দিতে হচ্ছে নাগরিকত্বের প্রমাণ
৩ দেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা সাবেক ভারতীয় কূটনীতিককে দিতে হচ্ছে নাগরিকত্বের প্রমাণ
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে হত্যার রহস্য উদঘাটন, যা জানালো পুলিশ
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে হত্যার রহস্য উদঘাটন, যা জানালো পুলিশ
‘ঢাকায় যদি ফুটপাতে একটা দোকান থাকে, মিজানেরটাও থাকতে হইবো’
‘ঢাকায় যদি ফুটপাতে একটা দোকান থাকে, মিজানেরটাও থাকতে হইবো’