ইরানের বিরুদ্ধে ‘ডি-ডে’র হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, জবাবে আরও বড় হুমকি তেহরানের 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৮আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৮

ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা জবাবে ইরান হুমকি দিয়েছে, অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক ফোঁটা তেলও রফতানি করতে দেবে না।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোকেও এসব পদক্ষেপের আওতায় আনা হতে পারে।

রবিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ডি-ডে বলতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দিন বোঝাচ্ছেন। 

সোমবার দুপুর ১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) সংবাদ সম্মেলনে নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত তুলে ধরার কথা রয়েছে বেসেন্টের।

এদিকে, ইরানও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথ—কোথাও থেকে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে কোনো দেশ অংশ নিলে বা সমর্থন করলে সেটিকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের এই হুমকিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে এরই মধ্যে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামও চাপের মুখে রয়েছে।

এর আগে বেসেন্ট চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কারণ, চীন ঐতিহাসিকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তার মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক সংগ্রহ করে। তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কোনো সমস্যার সমাধানে সহায়ক নয়। তিনি কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান।

ইরানের অর্থনীতি এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় দেশটির বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা, জ্বালানি সংকট ও বাণিজ্যিক বাধার পাশাপাশি এখন পুনর্গঠনের বড় ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে তেহরানকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ইরানে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে পারে, নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে এবং দেশটির ইসলামি শাসনব্যবস্থার ওপর জনসমর্থন আরও দুর্বল হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ জুনে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। এরপর কাতার, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ সংঘাতের অবসান ও কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সোমবার তেহরান সফর করবেন। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সফর হচ্ছে বলে জানিয়েছে তেহরান। পাকিস্তানের একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সফরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকিসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সংঘাতে তাদের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স

/আইএএম/
সম্পর্কিত
যুদ্ধের মধ্যেই বিশাল গ্যাস মজুতের সন্ধান পেলো ইরান
গিনিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত ৩০
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
গ্যাস নেই, শিল্প খাত‌ চলছে কীভাবে  
গ্যাস নেই, শিল্প খাত‌ চলছে কীভাবে  
কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা সাবেক কাউন্সিলরকে কুপিয়ে হত্যা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা সাবেক কাউন্সিলরকে কুপিয়ে হত্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোগান্তিতে লাখো মানুষ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোগান্তিতে লাখো মানুষ
‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো’
‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো’
সর্বাধিক পঠিত
খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনে জড়িতদের যেভাবে ধরলো পুলিশ
খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনে জড়িতদের যেভাবে ধরলো পুলিশ
৩ দেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা সাবেক ভারতীয় কূটনীতিককে দিতে হচ্ছে নাগরিকত্বের প্রমাণ
৩ দেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা সাবেক ভারতীয় কূটনীতিককে দিতে হচ্ছে নাগরিকত্বের প্রমাণ
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে হত্যার রহস্য উদঘাটন, যা জানালো পুলিশ
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে হত্যার রহস্য উদঘাটন, যা জানালো পুলিশ
জেলেদের সঙ্গে ট্রলারেই দুপুরের খাবার খেলেন প্রতিমন্ত্রী
জেলেদের সঙ্গে ট্রলারেই দুপুরের খাবার খেলেন প্রতিমন্ত্রী
অতিথি না করায় ‘১৪৪ ধারা’ ঘোষণা করে ছাত্রদল নেতার মাইকিং, ফাইনাল খেলা বন্ধ
অতিথি না করায় ‘১৪৪ ধারা’ ঘোষণা করে ছাত্রদল নেতার মাইকিং, ফাইনাল খেলা বন্ধ