যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটের রাত ভোটের সপ্তাহ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ২৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। ২১৩ ভোট নিয়ে পিছিয়ে থাকলেও নিজেকে জয়ী বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ভোট গণনা শেষ হয়নি ৯টি অঙ্গরাজ্যে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, ভোটের ফল প্রকাশ শুরু হওয়ার পর থেকেই বাইডেনের বিশাল ব্যবধানের আশা শেষ হয়ে গেছে। যিনিই জয় পাবেন তা হবে খুব কম ব্যবধানে। কিন্তু বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কে এবং কীভাবে জিতবেন এবং কখন তা জানা যাবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে নিজেকে জয়ী ঘোষণা এবং প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন। বাস্তবতা হলো, এমন কিছু বলার সময় এখনও আসেনি। এখনও বৈধ কয়েক লাখ ব্যালট গণনার প্রক্রিয়া চলছে। হোয়াইট হাউজের পরবর্তী কাণ্ডারি কে হচ্ছেন তা মাত্র কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফলাফলে নির্ভর করছে। এগুলো হলো অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, উইসকনসিন, মিশিগান ও পেনসিলভানিয়া।
ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যে কে জিতবেন?
অ্যারিজোনাতে বাইডেন এগিয়ে রয়েছেন। এর অর্থ হলো, ২০১৬ সালে তথাকথিত নীল দেয়াল বলে পরিচিত তিনটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে দুটিতে জিতে গেলেই ডেমোাক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত হয়ে যাবে। এই তিনটি অঙ্গরাজ্য হলো, উইসকনসিন, মিশিগান ও পেনসিলভানিয়া। উইসকনসিন ছাড়া বাকি দুটিতে পিছিয়ে রয়েছেন বাইডেন। তবে গণনার বাকি ভোটগুলো তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।
পেনসিলভানিয়ায় ১৪ লাখ ডাক ভোট গণনা বাকি আছে। সব ভোট গুনতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। মিশিগানের ডেট্রয়েট, উইসকনসিনের মিলওয়াকির মতো বড় শহরগুলোর খবর এখনও জানা যায়নি। এসব শহরে ডেমোক্র্যাটদের ভোট রয়েছে বেশি।
তবে সবকিছু তছনছ করে দিতে পারে জর্জিয়া। মঙ্গলবার ফল প্রকাশের শুরুতে ট্রাম্প বেশ এগিয়ে থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধান কমে উত্তাপ বাড়ছে। বাইডেনের পক্ষে যেতে পারে এমন শহর আটলান্টায় ভোট গণনায় দেরি হচ্ছে একটি পানির পাইপ ভেঙে পড়ার কারণে।
জর্জিয়াতে ডেমোক্র্যাটদের জয় মানে ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যের যেকোনও একটিতে জিতলেই হোয়াইট হাউজের টিকিট নিশ্চিত বাইডেনের।
আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
মার্কিন নির্বাচনে যেটিকে একসময় দুঃস্বপ্ন মনে হতো তা ঘটতে চলেছে। বাইডেন দাবি করেছেন তিনি জয়ের পথে এগিয়ে রয়েছেন এবং ট্রাম্প নিজেকে জয়ী দাবি করে ভোট জালিয়াতি ও চুরির অভিযোগ করেছেন। যা গড়াতে পারে আদালতের কাছে। আদালতের সিদ্ধান্ত যে দলের পক্ষেই যাক না কেন, পরাজিতরা ক্ষুব্ধ হবেন এবং তারা মনে করবেন তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অবশ্য চূড়ান্ত ফল এখনও জানা যায়নি। তবে এটি স্পষ্ট যে, ভোটের রাতে আমেরিকা দ্বিধাবিভক্ত জাতি হয়েই রয়েছে এবং তা আরও বাড়ছে। মার্কিন ভোটাররা ট্রাম্পকে তেমনটা সমর্থন দেননি, যা তিনি প্রত্যাশা করছিলেন।
তবু লড়াইয়ের সীমা চিহ্নিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে যারাই জয়ী হোক না কেন, রাজনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।








