আফ্রিকা মহাদেশের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দুই স্থায়ী আসন দেওয়ার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর ছোট উন্নয়নশীল দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো থেকে ঘূর্ণায়মান প্রক্রিয়ায় একটি আসনের প্রতিও সমর্থন রয়েছে দেশটির। তবে ওয়াশিংটন বর্তমান পাঁচ দেশের বাইরে ভেটো ক্ষমতা সম্প্রসারণের পক্ষে নয়। বৈশ্বিক সংস্থাটিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেবেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এই সমর্থনের বিষয়টি এমন সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থনের কারণে আফ্রিকার অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অসন্তুষ্ট। এছাড়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে, যেগুলো চীনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।
থমাস-গ্রিনফিল্ড রয়টার্সকে জানান, তিনি আশা করেন এই ঘোষণা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের লক্ষ্যে অগ্রগতি ঘটাবে। তিনি এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সফলতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই প্রস্তাবের মধ্যে আরও রয়েছে ভারতের পাশাপাশি জাপান ও জার্মানির জন্যও স্থায়ী আসনের দীর্ঘকালীন মার্কিন সমর্থন। তবে, থমাস-গ্রিনফিল্ড স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ ভেটো ক্ষমতাধারী দেশের বাইরে ভেটো ক্ষমতা সম্প্রসারণের পক্ষে নয়।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের পক্ষে। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে, যা এখন বৈধতা ও কার্যকারিতার সমস্যার সম্মুখীন। এটি সংস্কারের প্রয়োজন।
জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের আলোচনা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এ আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে, বিশেষ করে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে।
থমাস-গ্রিনফিল্ড বৃহস্পতিবার তার ঘোষণায় বলবেন, নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে এখন পর্যন্ত মূলত আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখন সময় এসেছে জাতিসংঘ সনদ সংশোধনের জন্য আলোচনায় যাওয়ার।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, আফ্রিকার দেশগুলো বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী আসনে প্রতিনিধিত্ব করলেও তাদের পূর্ণমাত্রায় নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত, যা আফ্রিকার ওপর বিশেষভাবে প্রভাব ফেলে এমন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজন।
তিনি ছোট উন্নয়নশীল দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি নির্বাচিত আসনের প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করবেন। কারণ এসব দেশ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ।









