যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে হারিকেন হেলেনের আঘাতের পর রবিবার থেকে শুরু হয়েছে ব্যাপক উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম। হারিকেনের প্রভাবে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ, ধ্বংস হয়েছে সড়ক ও সেতু, আর ফ্লোরিডা থেকে ভার্জিনিয়া পর্যন্ত বন্যায় প্লাবিত হয়েছে বিশাল এলাকা। মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত অন্তত ৯০ জনে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
নর্থ ও সাউথ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, টেনেসি ও ভার্জিনিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এসব রাজ্যে প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের প্রভাবে প্রাণহানি ঘটে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সেলফোন টাওয়ার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ এখনও তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি এবং নিখোঁজ হিসেবে তাদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বিমা সংস্থা ও পূর্বাভাসদাতারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন। ঝড়ের প্রভাবে পানির সরবরাহ ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন রুটগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পত্তি ধ্বংসের পরিমাণ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
নর্থ ক্যারোলিনায় বুনকোম্ব কাউন্টিতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। শেরিফ কোয়েন্টিন মিলার জানিয়েছেন, ওই কাউন্টিতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাউন্টি ম্যানেজার অ্যাভ্রিল পিন্ডার রাজ্যের কাছে জরুরি খাদ্য ও পানীয় সহায়তা চেয়েছেন। এছাড়া, অ্যাশেভিল শহরের বেশিরভাগ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
গভর্নর রয় কুপার বলেছেন, এই দুর্যোগটি ভয়াবহ। নর্থ ক্যারোলিনার উত্তরাঞ্চলের মানুষেরা এমন কিছু কখনও দেখেননি।
নর্থ ক্যারোলিনায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে এবং গ্যাসের জন্য মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। চিপ ফ্রাঙ্ক নামের একজন বাসিন্দা বলেন, মার্কেট বন্ধ, মোবাইলফোন সার্ভিস নেই, সবকিছু গ্যাস স্টেশনের ওপর নির্ভর করছে। কোথাও যেতে পারবেন না, আর এই অনুভূতিটা সত্যিই ভয়াবহ।
রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ২৭ লাখ মানুষ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন ছিল। শুক্রবারের তুলনায় তা ৪০ শতাংশ কম। ঝড়ের শক্তিশালী জলোচ্ছ্বাস, তীব্র বাতাস ও কঠিন পরিস্থিতি দূর-দূরান্তের এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করছেন। তবে জরুরি সেবাগুলো বিঘ্নিত না হওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরেই তিনি সেখানে যাবেন বলে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। আমরা পুনরুদ্ধার সহায়তা প্রদান করব।
এদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস তার নির্বাচনি প্রচারণার সফর সংক্ষিপ্ত করে ওয়াশিংটনে ফিরে এসে ঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে অংশ নেবেন। অপরদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জর্জিয়ার ভ্যালডোস্টা শহর পরিদর্শন করবেন এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে ফ্লোরিডার উপকূলে আঘাত হানে হারিকেন হেলেন। যা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টি এবং তীব্র বাতাসে বহু পুরনো ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে। ফ্লোরিডার স্টাইনহেচি এলাকায় ৮ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস ভ্রাম্যমাণ বাড়িগুলোকে ভাসিয়ে নিয়েছে। কিছু এলাকায় ১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস দেখা গেছে। কাছের ছোট্ট কমিউনিটি স্প্রিং ওয়ারিয়র ফিশ ক্যাম্প এলাকায় মানুষ শনিবারও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছিলেন এবং জরুরি সেবা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।









