যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা হবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান নীতি। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) তিনি জানান, এই পদক্ষেপ শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার আগে এনবিসি'র টুডে অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নীতি হবে এই যুদ্ধ বন্ধ করা এবং আমরা তা সম্ভব করতে সব কিছু করব।
রুবিও আরও বলেন, এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে মস্কো এবং কিয়েভ উভয়কেই কিছু ছাড় দিতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ইউক্রেনকে রাশিয়া দখল করা সব অঞ্চল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য থেকে সরে আসতে হতে পারে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা দিয়েছিলেন। বাইডেন বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা কখন এবং কীভাবে হবে তা ইউক্রেনের ওপর নির্ভর করবে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প তার নির্বাচনি প্রচারণায় দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যদিও কীভাবে তা করবেন তা স্পষ্ট করেননি। রুবিও বলেন, এটি জটিল হবে... কারণ প্রত্যেক পক্ষকে কিছু না কিছু ছাড় দিতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন, এ ধরনের সংঘাত কেবল কূটনৈতিক পথে শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্র এমন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে, যা ইউক্রেন ও আঞ্চলিক অংশীদারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং সংঘাতের ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করে।
৫৩ বছর বয়সী রুবিও দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক ও গোয়েন্দা কমিটির সদস্য ছিলেন। কিউবার অভিবাসী পরিবারের সন্তান রুবিও চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং ইসরায়েলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে ছিলেন।
হোয়াইট হাউজে শপথ নেওয়ার পর রুবিও বলেন, আমরা ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি এমনভাবে পরিচালনা করব, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নেবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের আরেকটি লক্ষ্য হবে শান্তি প্রচার। অবশ্যই, শক্তির মাধ্যমে শান্তি, কিন্তু কখনই আমাদের মূল্যবোধ বিসর্জন না দিয়ে।
সোমবার সন্ধ্যায় মার্কো রুবিওর নিয়োগ মার্কিন সিনেটে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। রুবিও ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার প্রথম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। অন্যান্য মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়োগের বিষয়ে আরও ভোট এই সপ্তাহে হওয়ার কথা।









