মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারগুলোতে ধস নেমেছে। কিন্তু এই ধস কি আসন্ন বৈশ্বিক মন্দার ইঙ্গিত বহন করছে?
বিশেষজ্ঞরা প্রথমেই সতর্ক করে দিচ্ছেন—শেয়ারবাজারের পতন আর অর্থনৈতিক মন্দা এক জিনিস নয়। তবে কখনও কখনও বড় ধরনের শেয়ারবাজার ধস আসন্ন মন্দার পূর্বাভাস দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়নে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও মুনাফা কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একটি অর্থনীতিকে মন্দাগ্রস্ত বলা হয় যখন টানা দুই কোয়ার্টারে জিডিপি সংকুচিত হয়। গত বছর অক্টোবর-ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি মাত্র ০.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, আর জানুয়ারিতে একই পরিমাণ সংকুচিত হয়েছে।
ব্যাংক সেক্টরকে অর্থনীতির ব্যারোমিটার হিসেবে দেখা হয়। এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের শেয়ার মূল্য ১০ শতাংশের বেশি নেমে গিয়েছিল। তামা ও তেলের দাম বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বাস্থ্যের সূচক। ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর এগুলোর দাম ১৫ শতাংশের এর বেশি কমেছে। গোল্ডম্যান স্যাক্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসে মার্কিন মন্দার শঙ্কা বেড়েছে ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসের জন্য কিছু সুখবরও আছে। সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ায় সরকারের ঋণ খরচ বছরে ৫-৬ বিলিয়ন পাউন্ড কমতে পারে। তবে অর্থনীতি সংকুচিত হলে কর রাজস্ব কমে যাওয়ায় এই সুবিধা থাকবে না বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
সত্যিকারের বৈশ্বিক মন্দার উদাহরণ খুব কম। তবে ১৯৩০-এর মহামন্দা, ২০০৮-এর আর্থিক সংকট এবং কোভিড মহামারির অর্থনৈতিক সংকট ছিল তীব্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারও সেই মাত্রার মন্দা হওয়ার শঙ্কা কম, তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে মন্দার ঝুঁকি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
সূত্র: বিবিসি








