যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইথিওপিয়ানদের জন্য প্রদত্ত অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস, টিপিএস) বাতিলের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অভিবাসন অধিকারকর্মীরা। তাদের সতর্কবার্তা, ফেব্রুয়ারিতে এই সুরক্ষার মেয়াদ শেষ হলে হাজারো মানুষ নির্বাসনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবরটি জানিয়েছে।
আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারের নির্বাহী পরিচালক আমাহা কাসা বলেন, ইথিওপিয়ান নাগরিকদের এই বিশেষ মর্যাদা পর্যালোচনা প্রক্রিয়া রাজনীতি ও বর্ণবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এবং এতে আইনের শাসন উপেক্ষা করা হয়েছে। তার দাবি, ইথিওপিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে নিরপেক্ষ ও বাস্তবভিত্তিক তথ্য বিবেচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক পক্ষপাতের প্রতিফলন।
বোস্টনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলাটি করেছেন তিনজন ইথিওপিয়ান নাগরিক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার। মামলায় বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর মাত্র ৬০ দিনের নোটিশে সুরক্ষা প্রত্যাহার করে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে আইনি ঝুঁকিতে ফেলেছে। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোম ইথিওপিয়ার দ্বৈত নাগরিকদের টিপিএস মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন, যা ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর বিবেচিত হবে।
তবে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, টিপিএস কখনোই কার্যত সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচি বা দীর্ঘস্থায়ী আবাসন কর্মসূচি হিসেবে তৈরি করা হয়নি। তার দাবি, আগের প্রশাসনগুলো দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের সুযোগ দিয়ে এই কর্মসূচির অপব্যবহার করেছে।
এই আইনি প্রক্রিয়া এমন একটা সময় শুরু হচ্ছে, যখন সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, হাইতি, নিকারাগুয়া ও দক্ষিণ সুদানের দ্বৈত নাগরিকদের বিশেষ মর্যাদা বাতিল নিয়েও একাধিক আইনি লড়াই চলছে। গত ১২ ডিসেম্বর মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ইথিওপিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি আর এই সুরক্ষা বজায় রাখার যৌক্তিকতা দেয় না এবং টিপিএস কখনোই স্থায়ী আবাসন কর্মসূচি হিসেবে পরিকল্পিত ছিল না।
২০২২ সালে তিগরাই অঞ্চলে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বাইডেন প্রশাসনের সময় প্রথম ইথিওপিয়ানদের টিপিএস দেওয়া হয়। যদিও ওই বছরের শেষ দিকে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়, তবে আমহারা অঞ্চলে চলমান সহিংসতার কারণে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি এই সুরক্ষার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।








