মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। শনিবার মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর এই অভিযান নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা ও বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
চলতি জানুয়ারি মাসেই অভিবাসন অভিযানে এ নিয়ে পাঁচবার ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটলো। এর মধ্যে মিনেসোটার রেনি গুড নামে এক নারীও রয়েছেন। এ ছাড়া চলতি মাসেই অভিবাসন বন্দিশালাগুলোতে অন্তত ছয়জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যাকে অস্বাভাবিক বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিবাসন সংস্থাগুলোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ১৭০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে। এই বরাদ্দের আওতায় চলতি মাসে ৩ হাজার এজেন্ট মোতায়েন করে মিনিয়াপোলিসে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এই সামরিক ধাঁচের অভিযানের প্রতিবাদে শুক্রবার হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার মধ্যেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা এই অভিযানকে ‘দখলদারি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, অপরাধীদের নির্মূল করতে এই অভিযান জরুরি। তবে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গ্রেফতার হওয়াদের বড় অংশের বিরুদ্ধেই কোনও ফৌজদারি অপরাধ নেই; বরং তাদের বড় অংশ দেওয়ানি অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন।
শনিবার মিনিয়াপোলিসে গুলিতে নিহত ব্যক্তি একজন মার্কিন নাগরিক। ৩৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম অ্যালেক্স প্রেত্তি। তিনি পেশায় একজন নার্স ছিলেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) দাবি করেছে, প্রেত্তি এজেন্টদের বাধা দিয়েছিলেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেত্তি যখন মুঠোফোনে ভিডিও করছিলেন, তখন এজেন্টরা তাকে পেপার স্প্রে করে মাটিতে চেপে ধরেন এবং এরপর গুলির শব্দ শোনা যায়। ভিডিওতে তার হাতে কোনও অস্ত্র দেখা যায়নি।
এর আগে রেনি গুড নামে এক নারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তাকে ‘দেশীয় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম। যদিও এর সপক্ষে কোনও প্রমাণ মেলেনি এবং ভিডিওতে দেখা গেছে গাড়িটি চলে যাওয়ার সময় পেছন থেকে গুলি করা হয়েছিল।
২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অভিবাসন বন্দিশালাগুলোতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩০ জন। টেক্সাসের একটি ক্যাম্পে কিউবান অভিবাসী জেরাল্ডো লুনাস ক্যাম্পোসের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইসিই প্রথমে একে অসুস্থতাজনিত মৃত্যু বললেও পরে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে দাবি করে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে একে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যান্য নিহতের মধ্যে রয়েছেন নিকারাগুয়া ও মেক্সিকোর নাগরিক। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বন্দিশালায় আটক মানুষের সংখ্যা ৬৯ হাজারে পৌঁছেছে, যা একটি রেকর্ড। আইসিই-এর তথ্যমতে, বন্দিদের ৪৩ শতাংশেরই কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই।









