ভেনেজুয়েলায় ওয়াশিংটনের নগ্ন হস্তক্ষেপে সৃষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝেই ট্রাম্পের কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হমকি হিসেবে দাবি করার নিন্দা জানিয়েছে কিউবা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কিউবার কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু হওয়ায় রাষ্ট্র দুটির মাঝে সংলাপভিত্তিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বানও জানিয়েছে হাভানা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “গঠনমূলক সম্পৃক্ততা, আইনসম্মত সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান কিউবার জনগণ এবং মার্কিন জনগণ, উভয়পক্ষের জন্যই উপকারী।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পারস্পরিক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্মানজনক ও পারস্পরিক সংলাপ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত কিউবা। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ বা চরমপন্থী কর্মকাণ্ডে সমর্থনের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক ঘন্টা আগে কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু হওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। তবে তিনি কিউবার অর্থনীতি নিয়ে সমালোচনা করেন এবং গত মাসে মার্কিন বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর দেশটিতে (কিউবায়) ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিউবা ভেনেজুয়েলার সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে কিউবান-আমেরিকানদের সঙ্গে আচরণের উন্নয়ন। তিনি কিউবার আমেরিকান নাগরিকদের বৈষম্য ও দীর্ঘ পরিবার-বিচ্ছিন্নতার শিকার বলে উল্লেখ করেন।
হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক এক সনদে কিউবাকে অস্বাভাবিক ও ব্যতিক্রমী হুমকি হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ‘অশুভ শক্তি’দের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হাভানা। কিউবার দাবি, দেশটিতে কোনো বিদেশি সামরিক বা গোয়েন্দা ঘাঁটি নেই। এছাড়া সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।
১৯৫৯ সালের ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবার বিপ্লবের পর থেকেই ওয়াশিংটন ও হাভানার সম্পর্ক বৈরিতাপূর্ণ। এর আগে ট্রাম্প কিউবাকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ এবং আঞ্চলিক সরবরাহকারীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, যা মানবিক সংকটের আশঙ্কাও তৈরি করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোপ লিও। তিনি সব পক্ষকে আন্তরিক সংলাপ চালানোর আহ্বান জানিয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছেন, যা কিউবার জনগণের দুর্ভোগ বাড়াতে পারে।








