চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক প্রথমবারের মতো মার্কিন খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন। তবে তাদের কাছে মেনুর একটি বিষয় একেবারেই অচেনা ঠেকছে, আর তা হলো- ‘টিপস’। আন্তর্জাতিক ফুটবলপ্রেমীরা যাতে না বুঝে ওয়েটারদের বকশিশ দেওয়া থেকে বঞ্চিত না করেন, সে জন্য আয়োজক শহরগুলোর বহু রেস্তোরাঁ এবার বিলে আগে থেকেই ২০ শতাংশ অতিরিক্ত গ্র্যাচুইটি বা সেবা মাশুল যুক্ত করে দিচ্ছে।
আটলান্টাভিত্তিক টি’স ব্রাঞ্চ বার-এর মালিক তেনেশিয়া মারে বাটলার জানান, বিশ্বকাপের কারণে তিনি স্বয়ংক্রিয় সেবা মাশুল ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করেছেন। তার কর্মীরাই তার কাছে সব এবং এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি কর্মীদের উপার্জনের বিষয়টি সবার আগে নিশ্চিত করছেন।
বিশ্বের অনেক দেশেই বকশিশ দেওয়ার এই নিয়ম নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের বেতনের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে একজন বকশিশ পাওয়া কর্মীকে ঘণ্টায় মাত্র ২.১৩ ডলার পর্যন্ত মজুরি দেওয়া হতে পারে, যদি বকশিশের টাকা যোগ হয়ে তা ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ ডলারে পৌঁছায়। ইউরোপের সামন্তবাদে এর উৎপত্তি হলেও যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের মজুরি না দিয়ে বকশিশের ওপর নির্ভরশীল রাখতে এই নিয়মের বিকৃতি ঘটানো হয় বলে জানান ‘ওয়ান ফেয়ার ওয়েজ’ জোটের প্রেসিডেন্ট সারু জয়রামন।
নিউ ইয়র্কের এক বারটেন্ডার জেসিকা ওর্দেনিয়ানা জানান, খেলাধুলার ব্যস্ত দিনে অনেক সময় পর্যটকদের বিলে স্বয়ংক্রিয় মাশুল যোগ করতে ভুল হয়ে যায়। মঙ্গলবার আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার ম্যাচ দেখতে আসা একদল বিদেশি সমর্থক প্রায় ৩০০ ডলারের বিল করলেও বকশিশ দেন মাত্র ৪ ডলার, যা ছিল ভীষণ হতাশাজনক।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড কুপার জানান, ক্যালিফোর্নিয়া বা মন্টানার মতো যেসব রাজ্যে পূর্ণ ন্যূনতম মজুরির পাশাপাশি বকশিশের টাকা দেওয়া হয়, সেখানকার কর্মীদের দারিদ্র্যের হার অন্য রাজ্যগুলোর চেয়ে অনেক কম। এদিকে বিশ্বকাপের ঠিক এক সপ্তাহ আগে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের কর্মীরা ধর্মঘটের ডাক দিলেও পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে তাদের মজুরি ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়।
সারু জয়রামন আশা প্রকাশ করেন, এই বিশ্বকাপ বকশিশ-নির্ভর কর্মীদের নিরাপত্তাহীনতার দিকটি সবার সামনে তুলে ধরবে। কারণ, মাস বা ঋতুভেদে বকশিশের পরিমাণ কমবেশি হলেও সাধারণ মানুষের খরচের বিল কখনোই কমে না, বরং বাড়তেই থাকে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস









