যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন মঙ্গলবার এমন একটি নতুন পরিকল্পনা চালু করেছে, যার মাধ্যমে লাখ লাখ আশ্রয়প্রার্থীকে সরাসরি বিতাড়ন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হতে পারে।
অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়াজাতকারী সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এ ঝুলে থাকা ১৪ লাখ আবেদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনতে জনমতের পরোয়া না করেই এ নিয়ম তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৭২৫টি আবেদন সরাসরি বিচার বিভাগের অভিবাসন বিচারকদের কাছে স্থানান্তরিত হবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও শুনানি ছাড়াই বিচারকেরা আবেদন খারিজ করে অনেককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারবেন।
ইউএসসিআইএস-এর পরিচালক জোসেফ বি. এডলো বলেন, বহু বছর ধরে আশ্রয়ের ব্যবস্থাকে প্রকৃত সুরক্ষার দাবির জন্য নয়, বরং কালক্ষেপণ ও কাজের অনুমতি নেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মানবপাচারকারীরা দুর্বল আবেদনে ব্যবস্থাটি ভরিয়ে দিচ্ছে যেন আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে তারা কাজ চালিয়ে যেতে পারে। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাইতিয়ান ও সিরীয়দের সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদা (টিপিএস) বাতিল হওয়া এবং নতুন এই আদেশের কারণে আইনজীবীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আইনজীবী আইরা কুর্জবান বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনসম্মত মানুষদের বেআইনি বানানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাতিসংঘের ১৯৬৭ সালের প্রটোকল লঙ্ঘন করছে এবং পুরো আশ্রয় ব্যবস্থাকে একটি নির্বাসন যন্ত্রে পরিণত করেছে।
অন্যদিকে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা জোর দিয়ে বলছেন, জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা অনেকেই জটিল অভিবাসন আইনের এই এক বছরের সময়সীমা বা প্রক্রিয়ার বিষয়ে অবহিত থাকেন না। নতুন এই নিয়মটি ইতোমধ্যে বহাল হলেও ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, তারা পরবর্তীতে জনগণের মন্তব্য গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চূড়ান্ত নিয়ম জারি করবে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

ঠোঁট সেলাই করে ইরানের বৃহত্তম কারাগারে বন্দিদের গণঅনশন
সেই ‘স্বৈরশাসক’ জেলেনস্কিতে এখন ‘মুগ্ধ’ ট্রাম্প






