বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরির (হল) ছোট রুমগুলো আকারে ক্ষুদ্র হলেও এর সাজসজ্জা বা ডর্ম ডেকোর-এর অর্থনীতি মোটেও ছোট নয়। টিকটকে ডর্ম ট্যুরের ভিডিও ভাইরাল হওয়া এবং সন্তানকে ঘরে ফেরার অনুভূতি দেওয়ার চেষ্টায় মা-বাবারা ঢালছেন মোটা অঙ্কের টাকা। ফলে ছাদ মিলিয়ে ছোট একটি রুমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানোর মতো ক্ষুদ্র অ্যাপার্টমেন্টে রূপ দেওয়ার এই শিল্প দিন দিন জমজমাট হয়ে উঠছে।
ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রতিষ্ঠান মেরি মার্গারেট ডিজাইনস-এর প্রতিষ্ঠাতা শেলি গেটস তার নিজের লুইসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির হলের রুমের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেটি ছিল মূলত একটি কারাগারের কক্ষের মতো।
চলতি বছর গেটস প্রায় ৩৫টি ডর্ম রুম সাজানোর কাজ করছেন। এর আগে তার কিছু কিছু সাজসজ্জার বাজেট পৌঁছায় ২০ হাজার ডলারে, যা তিনি চার বছরের বিনিয়োগ হিসেবে তুলে ধরেন। তার কাজের তালিকায় থাকে কেটে অর্ধেক করা ছাতা দিয়ে তৈরি কাস্টম ডেস্ক ক্যানোপি, রিমোট কন্ট্রোলড ঝাড়বাতি এবং বিশেষ চিত্রকর্ম।
এই শিল্পকর্ম নিয়ে গেটস বলেন, আমি চাই শিল্পকর্মটি যেন কলেজের স্মৃতি হয়ে থাকে, এমন কিছু না যা তারা বড় হয়ে ভুলে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই সেবার ধরন আবার কিছুটা ভিন্ন। বোস্টনভিত্তিক ডর্ম এসেনশিয়ালস কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা কেলি মাহোনি জানান, তার খদ্দেরদের প্রায় ৯৯ শতাংশই অন্য রাজ্য বা বিদেশের। শহরের সংকীর্ণ রাস্তায় ট্রাকে মালামাল টানা কিংবা দোকানে ঘুরে জিনিস খোঁজার ঝামেলা এড়াতেই তার টিমকে ভাড়া করা হয়।
মাহোনি বলেন, উত্তর-পূর্বের ডর্মগুলো দক্ষিণ অঞ্চলের বা ইনস্টাগ্রামে যা দেখেন তার চেয়ে অনেক আলাদা। ফলে সেখানে খাটের নিচে লুকানো কন্টেইনার বা খাড়া স্টোরেজ অত্যন্ত মূল্যবান।
অন্য দিকে, বিপুল অর্থ খরচ না করে নিজের পছন্দমতো ঘর সাজাচ্ছেন টিকটক ব্যবহারকারী তরুণরা। জেমস মেডিসন ইউনিভার্সিটির নতুন শিক্ষার্থী হেনলি বেডওয়েল ও তার রুমমেট রুম ডিজাইন অ্যাপ ও ভার্চুয়াল ট্যুর ব্যবহার করে কেনাকাটা সমন্বয় করেছেন। এতে তাদের খরচ হয়েছে মোট প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার। পরিবার থেকে দূরে থাকার শঙ্কা দূর করতে বেডওয়েল বলেন, পরিবারকে ছাড়া থাকার কষ্ট ভুলে থাকতে এই জায়গাটিকে যতটা সম্ভব আরামদায়ক করা প্রয়োজন।
ছেলে শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই এই ট্রেন্ড থেকে। মাহোনি রসিকতা করে বলেন, ছেলেদের ক্ষেত্রে আমরা এটাকে ডিজাইন বলি না, বলি রুম লেআউট।
গেটস ছেলেদের জন্য কাজ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে অলে মিস দলের সাবেক কোয়ার্টারব্যাক আর্চি ম্যানিংয়ের একটি ভিনটেজ চিত্রকর্ম।
পেশাদারদের দিয়ে সাজানো হোক কিংবা নিজে হাতে, সবার মূল উদ্দেশ্য একটাই। বেডওয়েল বলেন, ডর্ম রুমে এত টাকা খরচ করা কতটা অদ্ভুত তা নিয়ে মানুষ যাই ভাবুক না কেন, আপনার সন্তান আগামী নয় মাস এখানেই থাকবে। আপনি কেন চাইবেন না তারা আরামে থাকুক?
সূত্র: অ্যাক্সিওস

ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে আটকে মানুষ কত দিন বাঁচতে পারে
ল্যাপটপ ছেড়ে ‘হাতুড়ি-শাবল’ ধরছে জেন-জি
বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামের প্রথাগত চিত্র







