ভূমিকম্পে বাড়িঘর ভেঙে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষের বেঁচে থাকা নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের ওপর, যার মধ্যে রয়েছে আবহাওয়া, বাতাস ও পানির প্রাপ্যতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি মারাত্মক কোনও আঘাত না লাগে এবং আবহাওয়া অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা না হয়, তবে আটকে পড়া মানুষ এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে।
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া ও পশ্চিম কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর জীবিতদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্যোগের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পর থেকে দিন যত গড়ায়, বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ততই কমতে থাকে। কারণ বেশিরভাগ দুর্ঘটনাকবলিত মানুষ গুরুতর আহত হন কিংবা পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
তবে অলৌকিক ঘটনাও ঘটে। ২০১১ সালে জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামির পর একটি গুঁড়িয়ে যাওয়া ঘর থেকে ৯ দিন পর এক কিশোর ও তার ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আর এর আগের বছর ২০১০ সালে হাইতির পোর্ট-ও-প্রিন্সে ভূমিকম্পের ১৫ দিন পর ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ভূ-পদার্থবিদ ভিক্টর সাই বলেন, আটকে পড়া মানুষ যদি কোনও শক্ত টেবিলের নিচে এমন একটি সুরক্ষিত ফাঁকা জায়গায় থাকেন যা তাদের বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা করে, তবে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।
অন্যদিকে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ইমার্জেন্সি রেসপন্স বিশেষজ্ঞ ড. জোসেফ বারবেরা বলেন, ভবন ধসের ফলে যদি আগুন, ধোঁয়া বা বিপজ্জনক রাসায়নিক নির্গত হয়, তবে তা বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাস নেওয়ার মতো বাতাস ও খাওয়ার পানি থাকা অত্যন্ত জরুরি। ড. বারবেরা বলেন, খাবার ছাড়া আপনি কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারবেন, কিন্তু পানি ছাড়া বাঁচা আরও কঠিন।
আটকে থাকা স্থানে ভেতরের তাপমাত্রা যেমন বেঁচে থাকাকে প্রভাবিত করে, তেমনই বাইরের তাপমাত্রাও উদ্ধার অভিযানকে প্রভাবিত করতে পারে। কলম্বিয়ায়, যেখানে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর বেশি ভাগই ঘটেছে কালি, পেরেইরা, মানিজালস ও কুইবডো শহরে। তবে গ্রামীণ অঞ্চলের তথ্য এখনও কম পাওয়া গেছে। সেখানে আশার আলোও দেখা গেছে, পেরেইরায় একটি ধসে পড়া ভবন থেকে ৩৬ ঘণ্টা পর ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।
ড. বারবেরা আরও উল্লেখ করেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করার আগেই আহতদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তা না হলে পেশি থেঁতলে তৈরি হওয়া বিষাক্ত পদার্থ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে উদ্ধারের পর রোগী শকে চলে যেতে পারেন।
ভূমিকম্পের সময় বেঁচে থাকার সর্বোত্তম উপায় নির্ভর করে ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর। সক্রিয় ফল্ট লাইনে থাকা অঞ্চলগুলোর ইমারত নির্মাণ বিধি সাধারণত ভূমিকম্পসহনীয় করে তৈরি হয়, তবে সব জায়গায় তা মানা হয় না।
যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে নিয়ম হলো, ভবনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়া, আশ্রয় নেওয়া এবং শক্ত কিছু ধরে থাকা। ভারী টেবিল বা মজবুত আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত, যা ছাদ ধসে পড়লেও সুরক্ষাবলয় তৈরি করতে পারে। ধুলাবালি থেকে বাঁচতে মুখ কাপড় বা মাস্ক দিয়ে ঢেকে রাখা দরকার।
আর যদি কখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়তে হয়, তবে অতিরিক্ত শক্তি অপচয় না করে তা সঞ্চয় করে রাখতে হবে। খাবার ও পানি মেপে খেতে হবে, উদ্ধারকারীদের ডাক শোনার চেষ্টা করতে হবে এবং শব্দ করার জন্য আশপাশে কিছু পাওয়া যায় কি না খুঁজতে হবে। সঙ্গে ফোন থাকলে ব্যাটারি বাঁচিয়ে রেখে প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা উচিত।
সূত্র: এপি

জ্যোতিষীদের আপত্তিতে যেভাবে মাঝরাতে স্বাধীন হয়েছিল ভারত
বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামের প্রথাগত চিত্র
ল্যাপটপ ছেড়ে ‘হাতুড়ি-শাবল’ ধরছে জেন-জি
রান্না ছাড়াই পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া যায় যে চাল







