স্টেকের প্লেট সামনে এসেছে। গরম খাবার থেকে ধোঁয়া উঠছে, পাশে সাজানো ফর্ক ও নাইফ। কিন্তু কোন হাতে কোনটি ধরবেন, কী ভাবে স্টেক কাটবেন, আর কাটা মাংস মুখে তোলার সময়ই বা কী নিয়ম এসব নিয়ে অনেকেই রেস্টুরেন্টের টেবিলে খানিকটা অস্বস্তিতে পড়েন।
আসলে ফর্ক-নাইফ ব্যবহারের শিষ্টাচার খুব জটিল নয়। কয়েকটি সাধারণ নিয়ম জানলেই রেস্টুরেন্টে স্টেক খাওয়ার সময় আত্মবিশ্বাসী থাকা যায়।
প্লেটের ব্যবস্থাটাও বুঝে নিন
অনেক রেস্টুরেন্টে মূল খাবারের প্লেটের নীচে আরও একটি অপেক্ষাকৃত বড় প্লেট রাখা হয়। একে বলা হয় চার্জার প্লেট। এটি মূলত টেবিল সাজানোর অংশ এবং খাবার পরিবেশনের সময় অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়ার কাজেও ব্যবহৃত হয়।
স্যুপ, সালাদ বা মূল খাবারের পাত্র এই প্লেটের উপর রাখা হতে পারে। খাবারের পর্ব শেষ হলে সাধারণত মূল প্লেটের সঙ্গে চার্জার প্লেটও সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্টেক কাটবেন কী ভাবে?
স্টেক খাওয়ার সময় সাধারণত ডান হাতে নাইফ এবং বাঁ হাতে ফর্ক রাখাই প্রচলিত রীতির একটি। নাইফ ধরার সময় তর্জনী আঙুলটি হাতলের উপরে রেখে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়। অন্যদিকে ফর্কটি বাঁ হাতে স্বাভাবিক ভাবে ধরতে হবে।
প্রথমে ফর্ক দিয়ে স্টেকের একটি অংশ স্থির করে নিন। তারপর নাইফ দিয়ে প্রয়োজনমতো ছোট টুকরো কাটুন। পুরো স্টেক একসঙ্গে কেটে না রেখে একবারে যতটা খাবেন, ততটাই কাটা বেশি স্বাভাবিক ও পরিপাটি দেখায়।
কাটা হয়ে গেলে ফর্কে সেই টুকরো তুলে মুখে দিন। খাওয়ার সময় প্লেটের উপর অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়ার বদলে পিঠ সোজা রেখে বসাই টেবিল ম্যানারের অংশ।
নাইফ দিয়ে খেলা নয়
খাবার কাটার সময় নাইফের ব্যবহার শুধু খাবার কাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা ভালো। সেটি দিয়ে প্লেটে অযথা শব্দ করা, বাতাসে নাড়ানো বা অন্যের দিকে নির্দেশ করা এড়িয়ে চলুন।
একই ভাবে খাওয়ার মাঝখানে ফর্ক ও নাইফ কোথায় রাখা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাময়িক ভাবে বিরতি নিলে এগুলি প্লেটের উপর এমন ভাবে রাখতে পারেন যাতে বোঝা যায় খাবার এখনও শেষ হয়নি। খাওয়া সম্পূর্ণ হলে ফর্ক ও নাইফ পাশাপাশি রেখে দেওয়া হয়।
ভাত খাওয়ার নিয়ম কি আলাদা?
স্টেকের সঙ্গে ভাত বা অন্য কোনও সাইড ডিশ থাকলে ব্যবহারের নিয়ম কিছুটা বদলাতে পারে। বিভিন্ন দেশের খাবারের সংস্কৃতিতে ফর্ক, নাইফ ও স্পুন ব্যবহারের ধরন এক নয়।
ইউরোপীয় কন্টিনেন্টাল রীতিতে সাধারণত বাঁ হাতে ফর্ক এবং ডান হাতে নাইফ থাকে। ফর্ক দিয়ে খাবার ধরে রেখে নাইফ দিয়ে কেটে বা প্রয়োজনমতো খাবার ফর্কে তোলা হয়।
অন্যদিকে আমেরিকান টেবিল ম্যানারে কাটার পর ফর্ক হাত বদল করে ডান হাতে নেওয়ার চল রয়েছে। তবে আধুনিক রেস্টুরেন্টে এই নিয়মের প্রয়োগে কিছুটা নমনীয়তাও দেখা যায়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রীতিও আলাদা
ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে চামচ ও ফর্কের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। সেখানে অনেক সময় বাঁ হাতে ফর্ক দিয়ে খাবার চামচের দিকে ঠেলে দেওয়া হয় এবং ডান হাতে থাকা চামচ দিয়ে খাবার মুখে তোলা হয়।
অর্থাৎ একই খাবার খেলেও দেশ ও সংস্কৃতি অনুযায়ী টেবিল ম্যানার বদলে যেতে পারে।
প্লেটে শেষটুকু খাবার কী ভাবে তুলবেন?
প্লেটে সামান্য খাবার পড়ে থাকলে সেটি তোলার জন্য অস্বাভাবিক ভাবে প্লেট আঁচড়ানোর প্রয়োজন নেই। ফর্কের সাহায্যে খাবার এক জায়গায় এনে সহজে তুলে নিতে পারেন।
তবে প্লেটের শেষ কণা পর্যন্ত তুলে খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত চেষ্টা না করাই ভদ্র টেবিল ম্যানারের অংশ। বিশেষ করে অন্যদের সঙ্গে খেতে বসলে খাবারের স্বাভাবিক পরিমাণেই থামা ভালো।
মনে রাখার মতো কয়েকটি সহজ নিয়ম
রেস্টুরেন্টে স্টেক খাওয়ার সময় আসলে সবচেয়ে জরুরি হল স্বাভাবিক থাকা। ফর্ক ও নাইফ ঠিক ভাবে ধরা, খাবার ধীরে কাটা, একবারে ছোট অংশ খাওয়া এবং টেবিলে শব্দ না করলেই অনেকটাই শিষ্টাচার বজায় থাকে।
দেশভেদে নিয়মের পার্থক্য থাকলেও মূল বিষয় একটাই খাবার উপভোগ করুন, টেবিলে থাকা অন্যদেরও স্বচ্ছন্দ রাখুন এবং ফর্ক-নাইফকে ব্যবহার করুন সহজ ও পরিমিতভাবে।








