৯/১১-এর ২৫ বছর

বিদেশি হামলার চেয়ে দেশীয় সন্ত্রাসবাদকে বড় হুমকি মনে করছেন মার্কিনীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৫আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৫

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকরা দেশি চরমপন্থিদের হামলাকে বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠীর চেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইপসোস-এর নতুন এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

২৮ থেকে ৩১ আগস্ট পরিচালিত ওই জরিপে সাধারণ আমেরিকানদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কোনটি, এমন প্রশ্নের জবাবে ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা ‘দেশীয় সন্ত্রাসবাদ’কে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে ২০ শতাংশ ‘বিদেশি সন্ত্রাস’ এবং ৪২ শতাংশ গুলিবর্ষণের মতো দৈব সহিংসতাকে প্রধান হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ এক দশক আগে ২০১৩ সালের জরিপে ২৮ শতাংশ মানুষ বিদেশি সন্ত্রাসবাদকে প্রধান হুমকি মনে করতেন এবং অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদকে বড় হুমকি ভাবতেন ২১ শতাংশ মানুষ।

কোন আদর্শভিত্তিক হামলা বেশি বিপজ্জনক, জানতে চাওয়া হলে নতুন জরিপের ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা অভ্যন্তরীণ চরমপন্থিদের চিহ্নিত করেন এবং ৩৪ শতাংশ বিদেশি গোষ্ঠীকে দায়ী করেন। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই একাধিক হত্যাচেষ্টার মুখোমুখি হয়েছেন; যার মধ্যে ২০২৪ সালের এক গুলিবর্ষণে তার কান জখম হয়। এ ছাড়া ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউটাহতে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় কট্টরপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্ককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

জরিপে দেখা গেছে, ৯/১১ হামলার স্মৃতি আজও অম্লান। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জন উত্তরদাতা জানান, তারা প্রায়ই ওই ঘটনা স্মরণ করেন। আবার একই রকম একটি বড় হামলা হলে সামরিক পদক্ষেপের সমর্থনে মত দিয়েছেন প্রায় সমপরিমাণ মানুষ। তবে ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধগুলোর ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে। ৪৮ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন আফগানিস্তানে যুদ্ধ চালানো সঠিক ছিল না, যার বিপরীতে মাত্র ২১ শতাংশ একে সমর্থন করেছেন। ইরাক যুদ্ধের ক্ষেত্রেও ৫১ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই যুদ্ধগুলোতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অন্তত ৪৫ থেকে ৪৭ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

অবশ্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ৯/১১-পরবর্তী পদক্ষেপগুলোকে সফল মনে করছেন দেশটির নাগরিকরা। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জন নাগরিক মনে করেন, মার্কিন ভূখণ্ডে বড় কোনও হামলা ঠেকানোতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপ কার্যকর ছিল। ৭১ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৭৫ শতাংশ রিপাবলিকান বিমানবন্দরের কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সমর্থন করেছেন। তবে ২০০১ সালের পর অভ্যন্তরীণ নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টি জনপ্রিয়তা পায়নি। পরোয়ানা ছাড়া নাগরিকদের ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারির বিপক্ষে মত দিয়েছেন ৬৫ শতাংশ মানুষ।

সব মিলিয়ে ৭৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা গোটা মার্কিন রাষ্ট্রকাঠামোতে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং এই ঘটনা পুরো দেশকে একতাবদ্ধ করেছিল। অনলাইনভিত্তিক এই জরিপটি ১ হাজার ১৬৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনীকে নিয়ে পরিচালনা করা হয়।

/এএ/
সম্পর্কিত
জ্যান্ত সাপকেও দিতে হলো অডিশন 
নেটওয়ার্ক বিভ্রাটে ক্ষুব্ধ হয়ে টাওয়ার কর্মীকে খুঁটিতে বাঁধলো গ্রামবাসী 
ব্রিকস সম্মেলনের আগে মোদি-পুতিন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
সর্বশেষ খবর
মোড়ে মোড়ে ওতপেতে থাকতো তারা, অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নিতো সবকিছু
মোড়ে মোড়ে ওতপেতে থাকতো তারা, অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নিতো সবকিছু
স্থানীয় নির্বাচন তো দূরের কথা, কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার অধিকার নেই আ.লীগের: প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয় নির্বাচন তো দূরের কথা, কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার অধিকার নেই আ.লীগের: প্রতিমন্ত্রী
সোনমের সাদা সাজে পুরোনো দিনের রাজকীয় গ্ল্যামার
সোনমের সাদা সাজে পুরোনো দিনের রাজকীয় গ্ল্যামার
জ্যান্ত সাপকেও দিতে হলো অডিশন 
জ্যান্ত সাপকেও দিতে হলো অডিশন 
সর্বাধিক পঠিত
এক ভবন থেকে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, কী করছিলেন তারা
এক ভবন থেকে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, কী করছিলেন তারা
দৌলতদিয়ায় আতঙ্ক, কেন মারা যাচ্ছেন যৌনকর্মীরা? 
দৌলতদিয়ায় আতঙ্ক, কেন মারা যাচ্ছেন যৌনকর্মীরা? 
অন্যের স্ত্রীকে নিজের দাবি, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার
অন্যের স্ত্রীকে নিজের দাবি, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার
মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব বাড়লো 
মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব বাড়লো 
স্বর্ণের দামে বড় পতন
স্বর্ণের দামে বড় পতন