মৃত্যুদণ্ডের দুটি ইনজেকশনের পরও বেঁচে যাওয়া নারীর পরিণতি কী হবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১৬ আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুই দফা চেষ্টা সত্ত্বেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন ক্রিস্টা পাইক নামের এক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী। তবে এই ঘটনার পর তার চিকিৎসাসেবা এবং আইনি ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমায়ারের হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী হতে যাচ্ছিলেন।

আইনজীবীদের বরাতে জানা গেছে, পেন্টোবার্বিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ শরীরে দেওয়ার পরও বেঁচে যাওয়া পাইকের অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তাকে বর্তমানে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর টেনেসি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বিল লি চলতি বছরের জন্য সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত ঘোষণা করেছেন এবং ঠিক কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেল জোনাথন স্ক্রমেটির কার্যালয় থেকেও জানানো হয়েছে যে কী ঘটেছিল তা জানা জরুরি।

গণমাধ্যমের প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বুধবার সন্ধ্যায় বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়ার নির্ধারিত কার্যক্রম শুরু হয় এবং ৭টা ২৬ মিনিটে পাইক তার শেষ কথা বলেন। কিন্তু দুই ডোজ ওষুধ প্রয়োগের পরও তাকে শ্বাস নিতে এবং জীবিত থাকতে দেখা যায়। ডব্লিউপিএলএন-এর সাংবাদিক ক্যাথরিন সুইনি বলেন, এর কোনও কিছুই স্বাভাবিক ছিল না। গত বছর এবং চলতি বছরের বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আমি কাভার করেছি, কিন্তু এরকম কিছু কখনও দেখিনি। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত করুণভাবে শেষ হয়েছে।

ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবী রান্ডি স্পাইভি এবং কেলি গ্লিসন জানান, পাইকের রগের সমস্যার কারণে ইনজেকশন প্রয়োগে জটিলতা হতে পারে বলে তারা আগেই আদালতকে সতর্ক করেছিলেন। আরেক আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, মৃত্যু নয়, বরং তার প্রধান ভয় ছিল দীর্ঘস্থায়ী ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ছাড়া ঠিক সেটাই ঘটেছে।

স্পাইভি আরও বলেন, পাইকের শাস্তি শিথিল করে তা কমানো উচিত, কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন।

অ্যামহার্স্ট কলেজের অধ্যাপক অস্টিন সারাট জানান, বিষাক্ত ওষুধ রক্তে প্রবেশের পরও বেঁচে যাওয়ার ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন এবং এটি আইনি ব্যবস্থার জন্য এক বড় জটিলতা। এর আগে ১৯৪৬ সালে উইলি ফ্রান্সিস নামের এক ১৬ বছর বয়সী কিশোর বৈদ্যুতিক চেয়ারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বেঁচে গিয়েছিল এবং ২০০৯ সালে রোমেল ব্রুম নামের এক কয়েদির রগ না পাওয়ায় ইনজেকশন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দুজনের ক্ষেত্রেই আদালত দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ডকে সংবিধানের লঙ্ঘন নয় বলে রায় দিয়েছিল। কিন্তু ক্রিস্টা পাইকের শরীরে বিষাক্ত ওষুধ প্রবেশের পরও বেঁচে যাওয়া তাকে এক নজিরবিহীন আইনি পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

/এএ/
সম্পর্কিত
যারা বিরিয়ানি খেতে জন্মেছেন তারা পশু: আসামের মুখ্যমন্ত্রী
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
কেন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
সর্বশেষ খবর
যারা বিরিয়ানি খেতে জন্মেছেন তারা পশু: আসামের মুখ্যমন্ত্রী
যারা বিরিয়ানি খেতে জন্মেছেন তারা পশু: আসামের মুখ্যমন্ত্রী
একের পর এক হামলা, দখল, চাঁদাবাজি: গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
একের পর এক হামলা, দখল, চাঁদাবাজি: গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
পুনর্বাসন ছাড়া মিটফোর্ডের হরিজন কলোনি উচ্ছেদ বন্ধের দাবি ১০৮ নাগরিকের
পুনর্বাসন ছাড়া মিটফোর্ডের হরিজন কলোনি উচ্ছেদ বন্ধের দাবি ১০৮ নাগরিকের
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচনের আগেরদিন গ্রেফতার, তবুও বিপুল ভোটে জিতলেন আ.লীগ নেতা
নির্বাচনের আগেরদিন গ্রেফতার, তবুও বিপুল ভোটে জিতলেন আ.লীগ নেতা
ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিনের পোস্ট, স্কুলছাত্র কারাগারে
ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিনের পোস্ট, স্কুলছাত্র কারাগারে
দুই মন্দিরে চুরির ঘটনায় চার জন গ্রেফতার 
দুই মন্দিরে চুরির ঘটনায় চার জন গ্রেফতার 
ব্র্যাকের পর নতুন যাত্রায় মিথিলা
ব্র্যাকের পর নতুন যাত্রায় মিথিলা
পাঁচ বছরে ৩২ দফায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে এলপিজির দাম
পাঁচ বছরে ৩২ দফায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে এলপিজির দাম