গণধর্ষণের অভিযোগে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ার পর সহপাঠীর প্রতি সংহতি জানিয়ে সোমবার বিশাল সমাবেশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে আইভি লীগভুক্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা কর্নেল প্রশাসন বিষয়টি কীভাবে সামলেছে, তা নিয়ে বহিরাগত তদন্ত, স্বাধীন শুনানি এবং ক্যাম্পাসে সব যৌন নিপীড়নের জন্য অভিন্ন ন্যূনতম শাস্তির দাবি জানান। এ ছাড়া যৌন সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগ মোকাবিলায় ক্যাম্পাস পুলিশের উন্নত প্রশিক্ষণও চান তারা।
‘জেন ডো’ ছদ্মনামে পরিচিত কথিত গণধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থী বলেছেন, ঘটনায় জড়িত ক্যাম্পাসের ফ্র্যাটারনিটি সদস্যদের তদন্ত ও শাস্তি দিতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি। কিছু বিক্ষোভকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল কোটলিকফ ও প্রশাসনের অন্য সদস্যদের পদত্যাগও দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীতিই ক্যাম্পাসে ধর্ষণ সংস্কৃতি জিইয়ে রেখেছে।
গত মাসে দায়ের করা মামলায় জেন ডো বলেছেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ক্যাম্পাসের চি ফি ফ্র্যাটারনিটি চ্যাপ্টারের কয়েক সদস্য তাকে মাদক খাইয়ে অচেতন করে যৌন নিপীড়ন চালান। তখন তার বয়স ছিল ২০ বছর। মামলায় চি ফির সাত জন সদস্য ছাড়াও ফ্র্যাটারনিটি চ্যাপ্টার, একটি স্থানীয় বার, তার নিজের সরোরিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে বিবাদী করা হয়েছে।
ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শুরু হয়। তবে স্থানীয় প্রসিকিউটর ফৌজদারি অভিযোগ আনতে অস্বীকৃতি জানান।
প্রথম অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই দিয়েছে কর্নেল। তারা চি ফি চ্যাপ্টার বন্ধ করে দিয়েছে এবং জড়িত সদস্যদের বহিষ্কারসহ নানা শাস্তি দিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস কর্নেলের নথির বরাতে জানিয়েছে, অভিযুক্ত সবাই অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন। কেউ বলেছেন, যৌন কার্যকলাপ সম্মতিতে হয়েছে, আবার কেউ নিজের জড়িত থাকার বিষয়টিই অস্বীকার করেছেন।
সোমবারের বিক্ষোভ ছিল উচ্চকণ্ঠ কিন্তু শৃঙ্খলাপূর্ণ। আপস্টেট নিউইয়র্কের ইথাকা শহরের ক্যাম্পাসে কয়েকশ শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সমর্থক ও কমিউনিটি কর্মী মিছিল করেন, যাদের সংখ্যা এক হাজার বা তারও বেশি হতে পারে। ‘এক সংগ্রাম, এক লড়াই’ এবং ‘ন্যায়বিচার না হলে শান্তি নয়’ স্লোগান দিতে দিতে তারা ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় পথচারী চত্বর ভরে ফেলেন এবং পাশের জায়গাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েন। অনেকের হাতে ছিলো ‘জেন ডোর জন্য ন্যায়বিচার’, ‘আমরা নির্যাতিতদের পাশে’ এবং ‘টপিক সেনটেন্স নয়, কারাদণ্ড চাই’ স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।
কর্নেলের প্রধান প্রশাসনিক ভবনের সামনে মিছিলটি শেষ হয়। সোমবার ভোরে অজ্ঞাত কর্মীরা ভবনটির সামনের দরজার দুটি কাচ ভেঙে এবং প্রবেশপথে স্প্রে পেইন্টে গ্রাফিতি এঁকে দেয়। এর একটিতে লেখা ছিলো ‘কর্নেলে ধর্ষকেরা সুরক্ষিত’। জেন ডো ও তার আইনজীবী রবিবার জানান, মামলা করার পর থেকে তারা একাধিক হুমকি পেয়েছেন। মামলাটি জনরোষ সৃষ্টি করেছে।
এই তোলপাড়ের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ডোর পরিচয় গোপন রাখা ন্যায্য কিনা, কারণ এতে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে অভিযোগকারীর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাননি। শনিবার বিতর্ক নিয়ে এক ভিডিও বার্তায় কোটলিকফ ক্যাম্পাসে ফ্র্যাটারনিটি ও সরোরিটির ভূমিকা খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন।
যে বাড়ি পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরিতে, ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অভিনেত্রীর রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছিল বার্তা