চিকিৎসার জন্য বেশ কিছুদিনের জন্য দেশের বাইরে থাকবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। ইতোমধ্যে তিনি লন্ডন পৌঁছেছেন। সেখানে অবস্থান করেও বিভিন্ন জনের সহযোগিতায় দেশ চালাচ্ছেন তিনি।শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। লন্ডনে থেকে দেশ পরিচালনা করলেও আসন্ন বাজেট অধিবেশন নিয়ে সাংবিধানিক সংকটে পড়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারি হওয়ার কথা নওয়াজের।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিতই জানানো হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে। এ বিষয়ে সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ সচিবরা প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে এবং প্রয়োজনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিচ্ছেন।
মুখপাত্র আরও জানান, দেশের প্রধান নির্বাহী ব্যক্তি হওয়ার কারণে অপারেশনের সময়ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করা কর্তব্য।
সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অপারেশন শেষ করে দেশে ফিরতে নওয়াজের প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, চিকিৎসার পুরো খরচ নিজেই বহন করছেন নওয়াজ। রাষ্ট্রীয় কোনও অর্থ তার চিকিৎসার জন্য ব্যয় হচ্ছে না।
দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লন্ডনে বসে দেশ পরিচালনার কারণে আসন্ন বাজেট অধিবেশন অসাংবিধানিক ও অবৈধ হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মুহাম্মদ চৌধুরি। তার মতে, বাজেট অধিবেশনকে বৈধ করার জন্য নওয়াজকে পদত্যাগ করে সংসদের জন্য নতুন নেতা নির্বাচন করতে হবে। তিনি জানান, পাকিস্তানের সংবিধান অনুসারে, আগামী ৩ জুন তৃতীয় সংসদীয় বছর শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে প্রেসিডেন্ট নতুন সংসদীয় বছর শুরু করার ঘোষণা দেবেন। সাধারণত প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বছর শুরু হয়। কিন্তু পাকিস্তানের বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতে তা দায়িত্ব কে পালন করবেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি।
ইফতিখার আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী চাইলেও কাউকে তার দায়িত্ব পালন করার জন্য নিয়োগ দিতে পারবেন না। একমাত্র সমাধান নওয়াজকে পদত্যাগ করে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের জন্য নতুন নেতা নির্বাচন করা।
আগামী শুক্রবার দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ২০১৬-১৭ সনের বাজেট উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী ইশাক দার। শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহযোগী ও মুখপাত্র মুসাদিক মালিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী দেশ চলবে। সরকারের নিয়মিত কাজের জন্য দায় থাকবে ইশাক দারের ওপর।
শুক্রবার রাতে নওয়াজের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ শরিফ জানান, ‘সাম্প্রতিক নির্দিষ্ট কিছু জটিলতার কারণে চিকিৎসকরা আরও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হৃদরোগ চিকিৎসক ও সার্জনদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তার ওপেন হার্ট সার্জারি করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, লন্ডনে অপারেশনের পর সুস্থ হয়ে উঠার জন্য তিনি এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকবেন। চিকিৎসকরা অনুমতি দেওয়া মাত্রই তিনি দেশে ফিরে আসবেন। মঙ্গলবারের অস্ত্রোপচার হবে পাঁচ বছরের মধ্যে নওয়াজ শরিফের দ্বিতীয় ওপেন হার্ট সার্জারি। সূত্র: ডন।
আরও পড়ুন:
- বদলে যেতে পারে মানব সভ্যতার ইতিহাস!
- সংকটের মুখে ‘যৌনদাসী’দের বিক্রি করছে আইএস, চলছে অনলাইন প্রচারণা
- জাপানের মার্কিন ঘাঁটিতে কারফিউ, মদ্যপান নিষিদ্ধ
/এএ/








