পাকিস্তান সেনাবাহিনী দেশটির নির্বাচিত সরকারের ওপর ক্রমেই চাপ বৃদ্ধি করছে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত আসছে সেনাবাহিনী থেকে। এমনটাই বলেছেন পাকিস্তানের বিরোধী দল তেহরিক-ই-ইনসাফের এক পার্লামেন্ট সদস্য।
রবিবার (১৯ জুন) পার্লামেন্ট অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন পার্লামেন্ট সদস্য আলী মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। তবে যখন সেনাবাহিনীর একজন জেনারেল সামনে আসেন, তাকে প্রশ্ন করার সাহস থাকে না কারও। আমি সরকার ও বিরোধীদলের সকল রাজনীতিবিদকে জনগণের প্রতি আস্থা রাখতে বলবো, যারা তাদের নির্বাচিত করেছেন।’
ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই বছরে নওয়াজ শরীফের সরকার কোনও শক্তিশালী শাসন কাঠামো তুলে ধরতে পারেনি। পানামা পেপারস-এ নওয়াজের নাম আসার পর পাকিস্তানের রাজনীতিতে তার অবস্থান আরও ম্লান হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তেমন ভালো যাচ্ছে না। আফগানিস্তান এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুরো মন্ত্রীসভা পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের আমন্ত্রণে তার রাওয়ালপিণ্ডির বাসভবনে দেখা করতে যান। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল দেশটির পররাষ্ট্র এবং নিরাপত্তা বিষয়ক নীতি নির্ধারণ।
ওই সাক্ষাতের পরই শুরু হয় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের বিষয়ে সমালোচনা এবং বিতর্ক। তবে নওয়াজ শরীফের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সরতাজ আজিজ পার্লামেন্টে জানান, এমনটা বলা ভুল হবে যে, সেনাবাহিনী দেশের আন্তর্জাতিক বিষয়ক নীতি নির্ধারণ করছে। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধের জন্যই আমরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি।’
তবে পাকিস্তানি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ আমির মতিন বলেন, ‘সেনাবাহিনী জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অবশ্যই নির্ধারিত হবে ইসলামাবাদ থেকে রাওয়ালপিণ্ডি থেকে নয়।’ সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আরও পড়ুন:
ফালুজা অভিযানে তিনদিনে ৩০ হাজার ইরাকি ঘরছাড়া
/এসএ/







