এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের কমপক্ষে নয় জন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের সবাই ধর্মনিরপেক্ষ ও বাম মতাদর্শের। এসব নিখোঁজের ঘটনা রাজনৈতিক অপহরণ বা গুম হতে পারে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিখোঁজ অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের স্বজন ও বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা বিভিন্ন বার্তা সংস্থার কাছে রবিবার এ নিয়ে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছেন। ভারতে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের মধ্যে কমপক্ষে চার জন নিখোঁজ হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৪ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ওয়াকাস গোরায়া ও অসিম সায়েদ, শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) থেকে নিখোঁজ রয়েছেন অধ্যাপক, কবি ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট সালমান হায়দার এবং শনিবার (৭ জানুয়ারি) থেকে নিখোঁজ রয়েছেন আহমেদ রাজা নাসের।
অ্যাকটিভিস্টদের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে অব্যাহত চাপের মুখে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বালুচিস্তান থেকে স্পষ্টভাষী কবি ও ব্লগার সালমান হায়দারের গুমের ঘটনা তদন্ত করবে। তবে নিখোঁজের অন্য কোনও ঘটনা নিয়ে কোনও তথ্য জানায়নি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক এনজিও বাইটস ফর অল-এর প্রধান শাহজাদ আহমেদ বলেন, ‘এসব অনলাইন অ্যাকটিভিস্টের কাউকেই আদালতে হাজির করা হয়নি বা তাদের কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। তাদের এভাবে নিখোঁজ থাকাটা কেবল তাদের পরিবারের জন্যই নয়, সব নেটিজেন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের জন্যই উদ্বেগের কারণ।’
নিখোঁজ আরেক অ্যাকটিভিস্ট আহমেদ রাজা নাসের পোলিওতে আক্রান্ত। তার ভাই তাহির ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তার ভাইকে তাদের নিজস্ব দোকান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নিখোঁজ অ্যাকটিভিস্টদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে সালমান হায়দারের নিখোঁজের ঘটনা। ফাতিমা জিন্নাহ ইউনিভার্সিটিতে জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগে অধ্যাপনা করেন তিনি। এছাড়া, মানবাধিকারকর্মী ও সামাজিক-রাজনৈতিক ইস্যুতে উর্দু ভাষার প্রতিবাদী একজন কবি হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। তার ভাই জিসান হায়দার পাকিস্তানে পত্রিকা দ্য ডনকে বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার আগে সালমান ছিলেন ইসলামাবাদের বনি গালা এলাকায়। সেখান থেকে তিনি স্ত্রীকে ফোন করে বলেছিলেন যে, রাত ৮টা নাগাদ বাসায় ফিরে আসবেন।’
রাত ১০টার পরও সালমান বাড়িতে ফেরেননি ওইদিন। পরে তার স্ত্রী তাকে ফোন করলেও তা কেউ ধরেনি। কিছুক্ষণ পরেই সালমানের মোবাইল থেকে স্ত্রীর কাছে একটি মেসেজ আসে। তাতে লেখা, জরুরি একটি কাজে সালমান বাইরে যাচ্ছেন। তার গাড়িটি ইসলামাবাদ এক্সপ্রেসওয়ের কোরাং টাউন চোক এলাকা থেকে সংগ্রহ করে নেওয়া যাবে। এই মেসেজ পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই ওই মোবাইলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশ পরে ওই নির্দেশিত এলাকা থেকে সালমানের গাড়ি উদ্ধার করে।
অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের এভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদারপন্থী অ্যাকটিভিস্ট ও বিশ্লেষকরা নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাদের বেশিরভাগেরই মন্তব্য, এসব নিখোঁজের ঘটনা রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে। নিখোঁজ অ্যাকটিভিস্টদের সবাই বামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শ প্রচার করতেন বলেই এমন উদ্বেগ জোরালো হয়েছে।
২০১৪ সালে হামলার শিকার হয়ে পাকিস্তান ছেড়ে যাওয়া বিশ্লেষক ও লেখক রাজা রুমি এএফপিকে বলেন, ‘রাষ্ট্র টিভিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। এবার তারা নজর দিয়েছে ডিজিটাল স্পেসে।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সরকার, তোমরা এটা করতে পারো না।’
তবে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘এসব ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জড়িত নয়। দেশটির স্বরাষ্টমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলি খান এর মধ্যে সালমান হায়দারের সন্ধানে পুলিশকে তৎপর হওয়ার নির্দেশন দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো সাবমেরিন থেকে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান
/টিআর/এমএনএইচ/








