মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামে দুই হাজার ছয়শর বেশি বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করে শনিবার মিয়ানমার সরকার এই তথ্য জানিয়েছে। মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর স্মরণকালের ভয়াবহ হামলার ঘটনা এটি।
মিয়ানমারের সরকার পরিচালিত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানিয়েছে, কটানকাউক, মুইনলুট ও কাইকানপিন গ্রাম ও মংগটুর দুইটি ওয়ার্ডে ২৬২৫টি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে আরসার চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সামরিক অভিযানের সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ১১ হাজার ৭০০ ‘স্থানীয় জাতিগত বাসিন্দা’ এলাকা থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন। জাতিগত বাসিন্দা বলতে সরকার রাখাইনে অমুসলিম জাতিগোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করছে।
তবে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্যাটেলাইট ছবি ও বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিতে আগুন লাগিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় প্রায় ৫৮ হাজার ৬০০ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। ত্রাণ কর্মীরা এতো মানুষকে সহযোগিতা করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
শনিবারও বাংলাদেশ-মিয়ানমারকে আলাদা করা নাফ নদীতে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা এসেছে। ইউএনএইচসিআর-র আঞ্চলিক মুখপাত্র ভিভিয়ান টান জানান, সবগুলো শরণার্থী শিবির পূর্ণ হয়ে গেছে। মানুষ খুব দ্রুত আসছে। আগামী দিনগুলোতে আরও অনেক বেশি জায়গার প্রয়োজন হবে।
গত সপ্তাহে মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনীর কয়েকটি ফাঁড়িতে একযোগে সমন্বিত হামলায় চালায় আরসা। এরপর থেকেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে অভিযানে নামে।
অগ্নিকাণ্ডের জন্য মিয়ানমার আরসাকে দায়ী করলেও বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, তাদেরকে উচ্ছেদ করতে সেনাবাহিনী গ্রামগুলোতে আগুন লাগিয়েছে ও হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। যাতে করে রোহিঙ্গারা বাধ্য হন পালাতে।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেতা আং সান সু চি’র জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাখাইনে বসবাসরত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম। রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনায় শান্তিতে নোবেল জয়ী সু চি’র বিরুদ্ধে সরব পশ্চিমা সমালোচকরা।
গত বছর অক্টোবরে একটি নিরাপত্তা ফাঁড়িতে হামলার পর রাখাইনে বড় ধরণের অভিযানে নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে মিয়ানমার। দেশটি তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। বাংলাদেশও রোহিঙ্গাদের প্রবেশে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাস করছেন। সূত্র: রয়টার্স।








