রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সু চি’র ভাষণের সমালোচনা বিশ্বনেতাদের

বিদেশ ডেস্ক
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৯:৫৭আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৯:৫৯

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও ডি ফ্যাক্টো নেতা অং সান সু চির রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও রোহিঙ্গা সংকটে নিয়ে দেওয়া প্রথম ভাষণের সমালোচনা করেছেন বিশ্বনেতারা।  মঙ্গলবার দেওয়া ভাষণে সু চি মানবাধিকার লঙ্ঘনে নিন্দা করলেও সেনাবাহিনীর কোনও সমালোচনা করেননি এবং জাতিগত নিধনের বিষয়টি ভাষণে উল্লেখ করেননি। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র নেতা ও কূটনীতিকরা সু চির ভাষণে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

অং সান সু চি
মঙ্গলবারই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি পুনরায় জানিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মিয়ানমারকে বলেছি, তারা (রোহিঙ্গা) তোমাদের নাগরিক। তোমাদের অবশ্যই তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে, নিরাপদ রাখতে হবে, আশ্রয় দিতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন টেলিফোনে কথা বলেছেন সু চির সঙ্গে। যাচাই করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন টিলারসন। তবে তিনি মানবিক সহযোগিতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, রাখাইনে সামরিক অভিযান অবশ্যই বন্ধ করতে হবে, মানবাধিকারকর্মীদের সহিংসতা কবলিত এলাকায় প্রবেশ করতে দিবে। জাতিগত নিধনের মুখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ম্যাক্রোঁ আরও জানান, সহিংসতা বন্ধে ও মানবিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উদ্যোগ নেবেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেজও সামরিক অভিযান বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের দুর্দশা লাঘবের আহ্বান জানিয়েছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তা না হলে মিয়ানমারে যে ট্র্যাজেডি মানবতাকে স্থবির করেছে তাতে করে ইতিহাসের আরেকটি অন্ধকার ও লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সহিংসতা কবলিত অঞ্চলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের সফরের আমন্ত্রণ মিয়ানমার সরকারের ‘একধাপ অগ্রগতি’। তবে তিনি আরও বলেন, যে গণতন্ত্রের জন্য তারা (সরকার) লড়াই করেছে সেই গণতন্ত্র জাতিগত, সামাজিক ও ধর্মের ঊর্ধ্বে সব মানুষের জন্য তা মিয়ানমারের নেতৃত্বকে প্রমাণ করতে হবে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে রাখাইনে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। রাখাইনে সহিংসতার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধ করেছে যুক্তরাজ্য।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনও সু চির ভাষণের সমালোচনা করেছে। সূত্র: বিবিসি।

/এএ/
সম্পর্কিত
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
সর্বশেষ খবর
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম