মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন দেশটিতে ৪৫ দিন ধরে জারি থাকা জরুরি অবস্থা অবসানের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার দেওয়া ওই ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে জরুরি আইন বলবৎ করা হয়েছিল যাতে পরিস্থিতি স্বাভবাবিক হওয়া পর্যন্ত সময় পাওয়া যায়। মালদ্বীপের রাজনীতিতে উদ্ভূত এই নতুন পরিস্থিতি নিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত ও নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাশিদ জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টিকে ইয়েমিনের বেআইনি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ বলে মনে করেন। মালদ্বীপের বিরোধীদলীয় নেতারা এই ঘোষণাকে অর্থহীন বলেছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দেশটির প্রতি রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সুযোগ অবারিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে ।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এখনও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ক্রমে শক্তিহীন হতে থাকা একটি পক্ষ কাজ করলেও নিরাপত্তাবাহিনীর পরামর্শে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য ইয়ামিন জরুরি অবস্থার অবসান ঘোষণা করেছেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতরা বলেছেন, এতে কিছু যায় আসে না। প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন আর কোনও আইন কানুনের তোয়াক্কা করে চলেন না। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা মন্তব্য করেছেন, ‘জরুরি অবস্থাকালীন আটক হওয়াদের আরও দীর্ঘদিন আটকে রাখার জন্য তাদের রিমান্ডের শুনানি এগিয়ে এনেছিলেন ইয়েমিন।’
মালদ্বীপের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নাশিদকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৩ বছরের সাজা পেতে হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে এখন সেখানে নির্বাসিত জীবন যাপন করা নাশিদ বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, দেশের বিচারব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করা এবং এবং আইনবিরুদ্ধ গ্রেফতারের ঘটনা ঘটানোর জন্যই জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন আবদুল্লা ইয়ামিন।
ভারত ইয়ামিনের জরুরি অবস্থা অবসানের ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। মালদ্বীপের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দেশটি মালদ্বীপকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ আগামী নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার আগে মালদ্বীপ সরকারের উচিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক করতে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইনের নিজস্ব গতিতে চলতে পারার বিষয়টি নিশ্চিত করা।
বিরোধী ৯ জন নেতার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ দেশটির সর্বোচ্চ আদালাত খারিজ করে দিলে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন গত ৫ ফেব্রুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। ওই সময়ে সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ এনে তার সরকার সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুম, প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের আরেকজন বিচারপতি এবং কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে যে আইনে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা ছিল সন্ত্রাস দমনের আইন।








