তীব্র খরায় টিকে থাকতে সন্তান বিক্রি করছে আফগান পরিবার

বিদেশ ডেস্ক
২২ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:২১আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫৪

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের একটি শহরে অপ্রত্যাশিত তীব্র খরার কারণে পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য বাবা-মায়েরা সন্তান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সন্তান বিক্রি করা কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

তীব্র খরায় টিকে থাকতে সন্তান বিক্রি করছে আফগান পরিবার

 

জাতিসংঘের মতে, ২০১৮ সালে তীব্র খরার কারণে আফগানিস্তানে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন অন্তত ২ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাট থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৮৪ হাজার এবং বাদঘিছ এলাকার ১ লাখ ৮২ হাজার। এই বছর দেশটিতে চলমান সহিংসতাতেও এত মানুষ ঘরবাড়িহারা হননি। টানা চার বছর ধরে অনাবৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলগুলোর কৃষিখাত চরম সংকটে পড়েছে। ২০১৭ সালে আফিমের উৎপাদন রেকর্ড মাত্রায় হলেও এই বছরে তা কমে গেছে এক-তৃতীয়াংশ।

হেরাট শহরের বাইরে একটি শরণার্থী শিবিরে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের একজন মামারিন, যিনি যুদ্ধে স্বামী হারিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে হারিয়েছেন ঘর। এখন পরিবারের অন্য সন্তানদের খাবারের জন্য হারিয়েছেন মেয়েকেও। ছয় বছরের মেয়ে আকিলাকে তিনি নাজমুদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছে ৩ হাজার ডলারে বিক্রি করে দিয়েছেন।

মামারিন সিএনএনকে বলেন, খরার কারণে আমি তিন সন্তান নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে আসি। এখানে এসেছিলাম সহযোগিতা পাওয়ার আশায়। কিন্তু কিছুই পেলাম না। সন্তানসহ না খেয়ে মৃত্যু এড়াতে আকিলাকে এক ব্যক্তির কাছে ৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে দিয়ে দেই। কিন্তু আমি পেয়েছি মাত্র ৭০ ডলার। আমার কোনও টাকা নেই, খাবার নেই, স্বামীও নেই।

বিক্রির বিষয়টি মেয়ে আকিলা জানে কিনা জানতে চাইলে মামারিন জানান, আমি যে তাকে বিক্রি করেছি তা সে জানে না। কীভাবে জানবে? সে তো এখনও শিশু। কিন্তু আমার আর কোনও উপায় ছিল না। হেসে হোক বা কেঁদে হোক, তাকে যেতেই হবে। বাধ্য না হলে কি কেউ তার নাড়ির টুকরোকে বিক্রি করে?

নাজমুদ্দিন অবশ্য আকিলাকে কিনে নেওয়া বিষয়টিকে দয়া হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, তার পরিবারের খাওয়ার মতো কিছু নেই। তারা ক্ষুধার্ত। আমি নিজেও গরিব জানি, কিন্তু ধীরে ধীরে হয়তো দুই বা তিন বছরে আমি টাকাটা দিতে পারবো।

সিএনএন জানায়, শিশু বিক্রির এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। খরার প্রকোপে থাকা পুরো পশ্চিম আফগানিস্তানে এমনটাই ঘটছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যক্তিও চার বছরের মেয়েকে বিক্রির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার কোনও উপায় ছিল না। কোনও টাকা নেই, উপার্জন নেই। এক লোকের কাছে টাকা ঋণ করেছিলাম। একদিন সে এসে বলে, হয় টাকা ফেরত দাও, না হলে মেয়েকে দিয়ে দাও। তাই মেয়েকে দিতেই বাধ্য হলাম।

/এএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
সর্বশেষ খবর
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম