দেড় লাখ রোহিঙ্গা শিশুকে স্কুলে ফিরিয়েছে ইউনিসেফ

বিদেশ ডেস্ক
২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:২৮আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৩২
image

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার শিশু স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। মিয়ানমারের রাখাইনে হওয়া সহিংসতায় এদের অনেকের শিক্ষাগ্রহণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষার করা কাজ জাতিসংঘের সংস্থা ‘ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস ইমার্জেন্সি’ (ইউনিসেফ) সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তত্ত্বাবধান করেছে।  বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) সংস্থাটি জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তকরণ ছাড়াও তাদেরকে কর্মমুখী শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর শিশুদের দেওয়া শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের। দেড় লাখ রোহিঙ্গা শিশুকে স্কুলে ফিরিয়েছে ইউনিসেফ

রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে থাকা ১৫ থেকে থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ৯৭ শতাংশই কোনও রকম আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নন। যার তারা বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, মানবপাচার ও হয়রানি বেশি ঝুঁকিতে থাকে। ইউনিসেফ আশ্রয় শিবিরগুলোতে শিক্ষার আলো ছড়াতে প্রায় এক হাজার ৬০০ স্কুলের এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তাদের লক্ষ্য এবছর নাগাদ দুই লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা।

সংস্থাটি আড়াই হাজার ‘লার্নিং সেন্টার’ গড়ে তুলতে চায়। যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষক ও সেচ্ছাসসসেবক কাজ করবেন। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি এদোয়ার্দ বেইগবেদের বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের যে ব্যাপক মাত্রা তাতে খুব দ্রুত কিছু পদক্ষেপ কার্যকর করা দরকার। কিন্তু আমার শুধু তাৎক্ষনিক কিছু প্রয়োজন পূরণে সহায়তা করতে পারি। আমাদের পক্ষে তো সব শিশুকে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব না। তারপরও আমরা এ বছর আমাদের কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষাদানের মান বৃদ্ধির।’

১১ বছরে রোহিঙ্গা শিশু মিনারা জানিয়েছে, সে প্রায় একমাস ধরে স্কুলে যাচ্ছে। মিয়ানমারের সে ক্লাস ফোরে পড়ত। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সে যেতে শুরু করেছিল, সেখানে যাওয়ার পথ কর্দমাক্ত। আবহাওয়াও ছিল গরম। একইভাবে ১২ বছরের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রোহিঙ্গা শিশু মতালেবও আবার স্কুলে যেত শুরু করেছে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর আবার স্কুলে যাওয়া শুরু করলেও সে তা বন্ধ করে দিয়েছল। পরে ইউনিসেফের কর্মকর্তারা তার মাকে বুঝিয়ে আবার তাকে স্কুলে নিয়ে আসেন। এখন সে যে স্কুলে পড়ে তা ইউনিসেফের তত্ত্বাবধানে কোডেক নামের সংস্থা পরিচালনা করছে।

ইউনিসেফের কক্সবাজার কার্যালয়ের শিক্ষা কর্মকর্তা ইফাত ফারহানা মন্তব্য করেছেন, ‘মিয়ানমারে গোলাগুলি এবং সহিংসতার প্রভাবে শিশুদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব পড়েছে। এদের কেউ বাক প্রতিবন্ধী। কেউ বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। স্বাভাবিকভাবেই, তাদের শিক্ষা গ্রহণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ইউনিসেফ রোহিঙ্গা শিবিরের শিশুদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিংয়েরও উদ্যোগ নিচ্ছে। পাঠদানের মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সিকশদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে প্রশিক্ষণের।

/এমএইচ/এএমএ/
সম্পর্কিত
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
সর্বশেষ খবর
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের