মিয়ানমারে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ করার সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হওয়া তরুণী মারা গেছেন। ১০ দিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রাণ হারান তিনি। নিহতের ভাইকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটি জানিয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা এটি। এর আগে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জান্তা সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে ব্যাপক বিক্ষোভ হচ্ছে। রাজপথে নেমে আসছে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভ দমনে পুলিশও কঠোর হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সেনা অভ্যুত্থানের দিনেই নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিসহ উর্ধ্বতন নেতাদের গ্রেফতারের পর বহু বিক্ষোভকারীকেও আটক করা হচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনী ও সাঁজোয়া যান।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি নেপিডোতে বিক্ষোভকারীদের হটাতে গুলি চালায় পুলিশ। সেসময় মিয়া থোয়াতে থোয়াতে খাইং নামের ২০ বছর বয়সী এক তরুণী মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। সেদিন থেকেই তাকে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।
থোয়াতে খাইং-এর ভাই ইয়ে হটুট অং টেলিফোনে রয়টার্সকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হচ্ছে এবং কিছুই বলার নেই।’
তার মৃত্যুতে বিক্ষোভকারীরা আরও বেশি করে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। শুক্রবারও (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমেছেন তারা। ইয়াঙ্গুনে নায় লিন হটেট নামে ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ রয়টার্সকে বলেন, ‘তাকে (খাইং) নিয়ে আমার গর্ব হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বিচলিত নই আমি।’









