সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে সামরিক-কাঠামোর সংবিধানের কপিতে আগুন দিয়েছে মিয়ানমারের অ্যাক্টিভিস্টরা। এছাড়া অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান নিপীড়ন নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিবেশি দেশ থাইল্যান্ড। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে অন্তত ৫৩৫ বিক্ষোভকারী। নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে হটিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে দেশটিতে প্রতিদিনই বিক্ষোভ চলছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন নীতি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবারও রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
রাজপথে অস্থিরতার মধ্যে নৃতাত্ত্বিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত এলাকায় অভিযান জোরালো করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। আর তার বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত বলেছেন এসব সংঘাত দেশটিতে অভূতপূর্ব মাত্রায় গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মির (কেআইএ) সঙ্গে সংঘাতে মিয়ানমারের ২০ সেনা নিহত এবং চারটি সামরিক ট্রাক ধ্বংস হয়েছে। এর কয়েক দিন আগে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। এসব সংঘাতের কারণে হাজার হাজার মানুষ থাই সীমান্ত এলাকায় পালিয়ে গেছে।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তানি সাংরাত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন মিয়ানমারে ক্রমবর্ধমান হতাহতের ঘটনায় মারাত্মক সমস্যায় রয়েছে ব্যাংকক। নেপিদোর প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানান তিনি। মিয়ানমারে আটককৃতদের মুক্তি এবং সহিংসতার অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান থাই মুখপাত্র। তিনি জানান, মিয়ানমার সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ব্যাংকক।








