মালয়েশিয়ায় ২১ হাজার ৩৭৮টি ভুয়া অস্থায়ী কর্মসংস্থান পরিদর্শন পাস (পিএলকেএস) শনাক্ত করা হয়েছে। এসব পাস পাওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সাবেক অফিসারের সহায়তায় বিদেশি কর্মীদের এগুলো ইস্যু করা হয়েছিল। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে এক বাংলাদেশী কর্মীকে গ্রেফতারের পর এ সংক্রান্ত তদন্তে উঠে আসে এমন তথ্য।
মূলত বাগান, উৎপাদন ও পরিষেবা খাতে কাজ করা বিদেশিদের কর্মীদের এসব পাস সরবরাহ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
৭ এপ্রিল বুধবার মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অবহিত করেন দেশটির ইমিগ্রেশন দফতরের মহাপরিচালক দাতুক খায়রুল দাযাইমি দাউদ। তিনি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করে তাদের মালয়েশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হবে।
তিনি জানান, ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে এক বাংলাদেশী কর্মীকে গ্রেফতার করে কর্তৃপক্ষ। ওই গ্রেফতারের ঘটনার পর অননুমোদিত অস্থায়ী কর্মসংস্থান পরিদর্শন পাস (পিএলকেএস) নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট এবং তাদের কর্মকাণ্ড ট্র্যাক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে করোনা মহামারির ফলে উদ্ভূত বাস্তবতায় এ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে বাড়তি সময় লাগে।
জানা গেছে, জাল অস্থায়ী কর্মসংস্থান পরিদর্শন পাস (পিএলকেএস) ইস্যুর নেপথ্যে থাকা চক্রটির সঙ্গে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের সাবেক একজন অফিসারও যুক্ত ছিলেন। চক্রটি মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন দফতরের ওয়েবসাইট হ্যাক করে ভুয়া ভিসা স্টিকারের কাজ চালিয়ে আসছিল। পুরো সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে থাকা আরেক ব্যক্তি অভিবাসন দফতর সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখভাল করতেন।
মঙ্গলবার কুয়ালালামপুর সংলগ্ন ২২টি স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের আটক করা হয়। আটককৃতদের সবার বয়স ৩৩ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে। গত কয়েক বছরে এই চক্রটির কর ফাঁকির ফলে সরকারের ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত লোকসান হয়েছে। সূত্র: নিউ স্ট্রেইট টাইমস।








