বিপজ্জনক রাসায়নিক বহনকারী জাহাজে আগুন ধরে ডুবে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় শ্রীলঙ্কা উপকূলে ভেসে আসছে শত শত মৃত সামুদ্রিক প্রাণী। কলম্বো উপকূলে জুনের প্রথম দিকে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত এক্স-প্রেস পার্ল নামের জাহাজটিতে আগুন লাগার পর কয়েক দিন ধরে জ্বলার পর ডুবে যায়। সম্প্রতি দেশটির একটি আদালতকে জানানো হয়েছে, ১৭৬টি কচ্ছপ, ২০টি ডলফিন এবং চারটি তিমির মরদেহ উপকূলে পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা তেলবাহী জাহাজটি আগামী কয়েক দশক ধরেই পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে থাকবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এক্স-প্রেস পার্ল নামের জাহাজটিতে গত ২০ মে আগুন ধরে যায়। সেসময় এতে ২৭৮ টন বাংকার জ্বালানি তেল এবং ৫০ টন গ্যাস তেল ছিলো। এছাড়া এতে অন্যান্য রাসায়নিক ও কসমেটিকের পাশাপাশি ২৫ টন নাইট্রিক এসিড ছিলো। পরিবেশবাদী একটি গ্রুপ কয়েক দিন আগে জানিয়েছে জাহাজটির কার্গো ওই এলাকার জন্য ‘রাসায়নিক স্যুপ’ হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, বছরের এই সময়ে সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক নয়। পরিবেশ মন্ত্রী মাহিন্দা অমরাভিরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বৃষ্টিপাতের কালে সামুদ্রিক প্রাণী এইভাবে কোনও দিন মারা যায়নি।’ তিনি বলেন, ‘এসব মৃতদেহের বেশিরভাগই পাওয়া গেছে সরাসরি পশ্চিম উপতকূলে যা জাহাজটির ধ্বংসস্তূপে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।’
১৮৬ মিটার দীর্ঘ এক্স-প্রেস পার্ল নামের জাহাজটি ভারতের হাজিরা বন্দর থেকে ১৫ মে কলম্বোর উদ্দেশে যাত্রা করে। কলম্বো বন্দর থেকে দূরে নোঙ্গর করে থাকার সময় এতে আগুন ধরে। এর কয়েক দিনের মাথায় দেশটির সবচেয়ে প্রাণ বৈচিত্র্যময় সমুদ্র তটে তেল, ধ্বংসস্তূপ, প্লাস্টিক দূষণ দেখা যেতে থাকে। প্রাথমিকভাবে ওই এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। সম্প্রতি সেই নিষেধাজ্ঞা অবশ্য প্রত্যাহার করা হয়েছে।








