ন্যাটো বাহিনী ছেড়ে যাওয়ার আগেই দখল নেওয়ার মরিয়া প্রচেষ্টায় আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রবেশ করেছে তালেবান। বাজিস প্রদেশের রাজধানী কালা-ই-নাউতে তালেবানরা প্রবেশের পর সব সরকারি কর্মকর্তারা কাছের একটি সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেখানকার গভর্নর। তিনি জানিয়েছেন, তালেবান সদস্যরা শহরটির মধ্যাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, আর সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের তুমুল লড়াই চলছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রায় ২০ বছর যুদ্ধের পর আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও তাদের মিত্ররা। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটিতে থেকে বেশিরভাগ বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। তখন নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে আফগান সরকার। তবে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আগেই আফগানিস্তানের বেশিরভাগ এলাকার দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তালেবান।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তালেবান সদস্যরা কালা-ই-নাউ শহরের কারাগারে ঢুকে পড়েছে। আর সেখানকার প্রায় চারশ’ বন্দিকে মুক্ত করে নিয়েছে তারা। এসব বন্দিদের মধ্যে প্রায় একশ’ তালেবান সদস্যও রয়েছে। কারাগারের নিরাপত্তায় থাকা আফগান বাহিনী লড়াই ছাড়াই আত্মসমর্পণ করে বলেও জানা গেছে।
গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে এখন আফগানিস্তানের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকা। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকার দখল নিচ্ছে তারা। তবে এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ প্রদেশের রাজধানীই সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তিতে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কোনও উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে কার্যক্রম চালাতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তালেবান। তবে আফগান বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই বন্ধ করার কোনও প্রতিশ্রুতি তারা দেয়নি। ফলে আফগান বাহিনী নিজ দেশের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
কাবুলের সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি কৌশলগত কারণেই তালেবানরা এখন নতুন নতুন এলাকা দখল নিতে পারছে। তবে মাঠ পর্যায়ে যুদ্ধরত কমান্ডাররা বলছেন, গোলাবারুদের সংকটে রয়েছেন তারা। এছাড়া সামরিক সহায়তা আসতেও বিলম্ব হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছেন, আফগান বাহিনী বিদ্রোহীদের দূরে রাখতে সম্পূর্ণ সক্ষম। তবে গত কয়েক দিনে এক হাজারের বেশি আফগান সেনা প্রতিবেশি তাজিকিস্তানে পালিয়ে গেছে। এছাড়াও অনেক সেনা পাকিস্তান ও উজবেকিস্তানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।









