তালেবানের হাতে কাবুলের পতন আফগান সরকারের প্রতি দেশটির জনগণের অনাস্থার প্রমাণ। এমন মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তান বিষয়ক জাতিসংঘের সাবেক বিশেষ দূত পিটার গ্যালব্রেইথ।
বিবিসি গ্লোবাল নিউজওয়্যারকে তিনি বলেছেন, সরকারি বাহিনীর তুলনায় তালেবানের বাহিনী অনেক ছোট। সরকারি ফোর্সের মতো তাদের কাছে আধুনিক কোনও অস্ত্রশস্ত্রও নেই। তাদের কোনও বিমান বাহিনী নেই। কিন্তু সরকারে এতো দুর্নীতি হয়েছে যে, পুলিশ আর সৈনিকরা মাসের পর মাস বেতন পায়নি। তাদের ঠিকমতো গুলি ও খাবার সরবরাহ করা হয়নি। সুতরাং যখন পতন শুরু হয়, এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তাদের কেউ লড়াই করতে চায় না। তারা এমন যুদ্ধে মারা যেতে চায় না, যেখানে এরইমধ্যে পরাজয় হয়ে গেছে।’
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে রবিবার তালেবান প্রায় বিনা বাধায় কাবুলে ঢুকে পড়লে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি। তবে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তার দাবি, রক্তপাত এড়াতেই তিনি দেশ ছেড়েছেন।
মাত্র ১০ দিনের মধ্যে আফগানিস্তানের বেশিরভাগ এলাকা দখল করে রবিবার কাবুলে প্রবেশ করে তালেবান বাহিনী। এক পর্যায়ে দলটির নেতারা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের ঢুকে পড়লে পালিয়ে যান মার্কিন সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি।
দেশ ছাড়ার পর ফেসবুক পোস্টে আশরাফ গণি বলেন, কাবুলের লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে তিনিও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছেন। রক্তপাত এড়াতে দেশত্যাগই তার কাছে ভালো মনে হয়েছে।
আশরাফ গণি দাবি করেন তালেবান এখন এক ঐতিহাসিক পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। তার ভাষায়, ‘তলোয়ার এবং বন্দুকের বিচারে তালেবান বিজয় অর্জন করেছে আর এখন আমাদের দেশবাসীর আত্মমর্যাদা, সমৃদ্ধি এবং সম্মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের।’
দেশ ছাড়লেও বর্তমানে কোথায় রয়েছেন তা প্রকাশ করেননি আশরাফ গণি। তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের বরাতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট, তার স্ত্রী, চিফ অব স্টাফ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা প্রতিবেশী দেশ উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে উড়াল দিয়েছেন।









