তালেবান যোদ্ধাদের দ্বারা আটক হওয়ার পর কাবুল পুলিশ স্টেশনে নিয় যাওয়া দুই আফগান সাংবাদিক নৃশংস নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। তাদের অপরাধ? তারা রাজধানীতে নারীদের একটি বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদন অনুসারে, ফটোসাংবাদিক নিমাতুল্লাহ নাকবির মাথায় পা দিয়ে মুখ নিচের দিকে রেখে কংক্রিটে চেপে ধরে। তার কথায়, আমার মনে হয়েছিল তারা আমাকে মেরে ফেলবে।
নাকবি ও তার সহকর্মী তাকি দারিয়াভি এতিলাট রোজ নামের সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন। তাদেরকে কাবুলের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে শিক্ষা ও কাজের দাবিতে নারীদের বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার আগে যেসব প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে এটি ছিল সেগুলোর একটি।
আরও পড়ুন: নারীদের বিক্ষোভ কাভার করায় সাংবাদিকে পিটিয়েছে তালেবান
ছবি তোলা শুরু করলেই বাধার মুখে পড়েন এই দুই সাংবাদিক। নাকবি বলেন, “তারা আমাকে বলে, ‘আপনি ছবি তুলতে পারবেন না’।” তিনি আরও জানান, তারা তার ক্যামেরাও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু ভীড়ের মাঝে এক ব্যক্তির হাতে সেটি দিয়ে দেন। কয়েকঘণ্টা ধরে আটক ও মারধরের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বলেন, “তালেবান আমাদের দুজনকে বলেছে, ‘আপনারা ভাগ্যবান বলে শিরশ্ছেদ করা হয়নি’।”
আরও পড়ুন: আফগানিস্তান: অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হওয়া নারীদের মারধর
বুধবার সংবাদমাধ্যমটির পাঁচ সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টোলো নিউজ। এতিলাত রোজ পত্রিকার প্রধান জাকি দারিয়াবি জানান, তালেবানের কথায় ও কাজে মিল নাই। তার ভাষায়, ‘মাঠের বাস্তবতার চাইতে তালেবানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বিশাল ফারাক।’
সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে টুইটারে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বেদড়ক মারধরের চিহ্ন রয়েছে।
এই বিষয়ে তালেবানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছে এএফপি। কিন্তু কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
নারী ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিলেও তালেবান এখন বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস









