দুর্ঘটনাক্রমে পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে উচ্চ-পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ভারত। দিল্লি জানিয়েছে, বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছে তারা। এর আগে ইসলামাবাদের তরফ থেকে এই ঘটনা যৌথভাবে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। তবে মঙ্গলবার ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনাটি তারাই তদন্ত করে দেখবে।
গত ৯ মার্চ ঘটনাটি ঘটলেও দুই দিন পরে তা স্বীকার করে ভারত। প্রাথমিকভাবে দিল্লি দাবি করে রক্ষণাবেক্ষণের সময় ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটির’ কারণে এই ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পার্লামেন্টে বলেন, ঘটনাটি ‘দুঃখজনক’। তবে এতে কেউ নিহত না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।
উভয় দেশই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় শহর মিয়া চান্নুর কাছে বিধ্বস্ত হয় ‘উচ্চ-গতি সম্পন্ন উড়ন্ত বস্তু’। আর এটি যে পথে উড়েছে সেই পথের যাত্রীবাহী ফ্লাইটগুলোকে বিপন্ন করে তোলে। ভারতের ‘উদাসীনতা এবং অযোগ্যতার’ সমালোচনা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যৌথ তদন্তের দাবি জানায়।
মঙ্গলবার ঘটনা সম্পর্কে পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতাদের অবহিত করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পরিদর্শনের সময় দুর্ঘটনাবশত ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়ে যায়। রাজনাথ বলেন, ‘পরে জানা যায় ক্ষেপণাস্ত্রটি পাকিস্তানের সীমানায় পড়েছে... আমি পার্লামেন্টকে জানাতে চাই সরকার বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং উচ্চ-পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘তদন্তের পরই ঘটনার আসল কারণ জানা যাবে’।
পাকিস্তান বিমান বাহিনী জানায় ক্ষেপণাস্ত্রটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ১২ হাজার মিটার উচ্চতা দিয়ে শব্দের চেয়ে তিনগুন বেশি গতিতে ছুটে যায় এবং পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রায় ১২৪ কিলোমিটার ওড়ার পর তা বিধ্বস্ত হয়।
১১ মার্চ পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার বলেন, ‘বস্তুটি ফ্লাইটের পথে ভারত ও পাকিস্তানের আকাশসীমায় বহু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটকে এবং ভূমিতে থাকা মানুষের জীবন ও সম্পদকে বিপন্ন করে তোলে।’
এর একদিনের মাথায় ভারতের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে ঘটনাটি নিয়ে অভিযোগ জানায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া তদন্তের ফলাফল জানাতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
সূত্র: বিবিসি









