তাইওয়ানের কাছের এলাকাসহ এশিয়া অঞ্চলে চীন ক্রমবর্ধমানভাবে আগ্রাসী হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। শনিবার তিনি বলে তা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমন এবং সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব পদক্ষেপ নেবে।
বিগত কয়েক মাস ধরেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে উত্তেজনা চলছে। বিশ্বের বৃহত্তম এই দুই অর্থনীতি তাইওয়ান থেকে শুরু করে চীনের মানবাধিকার রেকর্ড এবং দক্ষিণ চীন সমুদ্রে বেইজিংয়ের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছে।
শুক্রবার চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। এতে উভয় পক্ষই সম্পর্ক উন্নয়নে আরও ভালো ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। যদিও বিরোধ নিরসনের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এশিয়ার অন্যতম বড় নিরাপত্তা সমাবেশ সাংরি-লা ডায়লগে রাখা বক্তব্যে লয়েড অস্টিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানসহ তার মিত্রদের পাশে দাঁড়ানো অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, ‘এটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ পিআরসি (পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না) তার আঞ্চলিক দাবিগুলোর জন্য আরও নিপীড়নমূলক এবং আগ্রাসী মনোভাব গ্রহণ করেছে।’
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের বলে দাবি করে চীন। প্রয়োজনে ক্ষমতা প্রয়োগ করে হলেও দ্বীপাঞ্চলটিতে নিজেদের দখল বজায় রাখতে চায় তারা।
অস্টিন বলেন অন্যান্য দেশের সাথে চীনের প্লেন এবং জাহাজগুলোর মধ্যে অনিরাপদ এবং পেশাগতভাবে সংঘর্ষের সংখ্যা ‘উদ্বেগজনক’ ভাবে বেড়েছে।
মে মাসে দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলেএকটি চীনা ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট বিপজ্জনকভাবে একটি অস্ট্রেলিয়ান সামরিক নজরদারি বিমানকে বাধা দেয় এবং কানাডার সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি পর্যবেক্ষণ করার সময় চীনা যুদ্ধবিমানকে তার টহল বিমানকে হয়রানি করার অভিযোগ করেছে।
তাইওয়ান বছরের পর বছর ধরে তার আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে বারবার চীনা বিমান বাহিনীর অভিযানের অভিযোগ করেছে, যা আঞ্চলিক আকাশসীমা নয় বরং একটি বিস্তৃত এলাকা যা হুমকি মোকাবিলায় পর্যবেক্ষণ করা হয়। অস্টিন বলে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অনুপ্রবেশ বেড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স









