X
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২
২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

সরানো হচ্ছে এভারেস্টের বেজ ক্যাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ জুন ২০২২, ১০:৩৩আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ১০:৩৩

জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের কর্মকাণ্ডে অনিরাপদ হয়ে ওঠায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্বতচূড়া এভারেস্টের বেজ ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে নেপাল। বসন্তে এভারেস্টে আরোহণ মৌসুমে এই ক্যাম্প প্রতিবছর প্রায় দেড় হাজার মানুষ ব্যবহার করে। এটি দ্রুত গলতে থাকা খুম্বু হিমবাহে অবস্থিত। নেপালের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতায় নতুন একটি স্থান পাওয়া গেছে, সেখানে সারা বছর বরফ থাকে না।

গবেষকরা বলছেন গলতে থাকা পানিতে হিমবাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। আর পর্বতারোহীরা বলছেন, তারা ঘুমানোর সময় বেজ ক্যাম্পের চিড়গুলো ক্রমাগত বাড়তে থাকে। নেপালের পর্যটন দফতরের মহাপরিচালক তারানাথ অধিকারী বলেন, ‘আমরা এখন স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং শিগগিরই সব অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবো’।

নেপালের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি মূলত বেজ ক্যাম্পে আমাদের দেখা পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং এটি পর্বতারোহণ ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে’। বর্তমানে এই ক্যাম্পটি পাঁচ হাজার ৩৬৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। নতুন ক্যাম্পটি এর চেয়েও দুইশ’ থেকে চারশ’ মিটার নিচে হবে বলে জানান তারানাথ অধিকারী।

এভারেস্ট অঞ্চলে পর্বতারোহণের সুবিধার্থে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনায় নেপালের সরকারের গঠন করা কমিটির সুপারিশ অনুসরণ করে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রেক্ষিতে হিমালয়ের অন্যান্য হিমবাহের মতো খুম্বু হিমবাহও দ্রুত গলছে এবং পাতলা হয়ে যাচ্ছে।

২০১৮ সালে লিডস ইউনিভার্সিটির গবেষকদের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, খুম্বু হিমবাহ থেকে প্রতি বছর ৯৫ লাখ ঘনমিটার পানি গলে যাচ্ছে এবং বেজ ক্যাম্পের কাছাকাছি অংশটি প্রতি বছর এক মিটার হারে পাতলা হয়ে যাচ্ছে।

বেজ ক্যাম্পের আশেপাশে এধরনের জলাশয় তৈরি হচ্ছে

গবেষকদের একজন স্কট ওয়াটসন বলেন, ‘আমরা দেখতে পেয়েছি বেজ ক্যাম্প এলাকায় বরফের পাতলা হওয়ার হার হিমবাহের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি কারণ সেখানে পাথর এবং পাথরের ধ্বংসাবশেষের একটি পাতলা আবরণ রয়েছে’।

ওয়াটসন বলেন, ‘বেশিরভাগ হিমবাহ এই পাথুরে ধ্বংসাবশেষে আচ্ছাদিত, তবে উন্মুক্ত বরফের এলাকাও রয়েছে যাকে বরফের ক্লিফ বলা হয়, এবং বরফের ক্লিফ গলে যাওয়াতেই হিমবাহ সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। যখন বরফের ক্লিফগুলো এভাবে গলে যায়, তখন বরফের চূড়ায় থাকা পাথর এবং পাথরের ধ্বংসাবশেষ সরে যায় ও পড়ে যায় এবং তারপর গলে জলাশয়েরও সৃষ্টি হয়। ফলে আমরা হিমবাহের উপরিভাগে পাথর পড়তে থাকা এবং গলিত পানির চলাচল বাড়া দেখতে পাচ্ছি যা বিপজ্জনক হতে পারে’।

পর্বতারোহী এবং নেপালের কর্তৃপক্ষ বলছে, বেজ ক্যাম্পের ঠিক মাঝখানের একটি স্রোত বছরের পর বছর বড় হচ্ছে। তারা আরও বলছেন হিমবাহের পৃষ্ঠে ফাটল এবং চিড় আগের চেয়ে বেশি ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে।

নেপালের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা কর্নেল কিশোর অধিকারী বলেন, ‘আমরা আশ্চর্য হয়ে দেখলাম রাতে যেখানে ঘুমিয়ে ছিলাম সেখানেই রাতারাতি চিড় ধরে গেলো।’ এই সেনা কর্মকর্তা বসন্তের পর্বতারোহণ মৌসুমে পরিস্কার রাখার এক অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় বেজ ক্যাম্পে অবস্থান করেছিলেন। এই মৌসুম শুরু হয় মার্চ মাসে এর শেষ হয় মে মাসে।

কর্নেল কিশোর অধিকারী বলেন, ‘সকালে, আমাদের অনেকেরই এই শীতল অভিজ্ঞতা রয়েছে যে আমরা রাতে সেগুলোর (ফাটল)মধ্যে পড়ে যেতে পারতাম। মাটির ফাটলগুলি প্রায়শই প্রকাশ হয়ে পড়ে, এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।’

সাগরমাতা দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির (এসপিসিসি) সদস্য এবং এভারেস্ট বেজ ক্যাম্পের ব্যবস্থাপক তাসেরিং তেনজিং শেরপাও একই বার্তার প্রতিধ্বনি করেন। তিনি বলেন, ঘন ঘন বড় শব্দ শোনা যায়, এর কারণ পাথর পড়া কিংবা বরফ নড়ে যাওয়া। তিনি আরও জানান, বেজ ক্যাম্পে তাঁবু স্থাপন করার আগে বরফে আচ্ছাদিত পাথুরে পৃষ্ঠকে সমতল করা প্রয়োজন পড়ে এবং হিমবাহ সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সময়ে সময়ে এটির পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন পড়ে।

তাসেরিং তেনজিং শেরপা বলেন, ‘অতীতে চ্যাপ্টা জায়গা দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরে ফুলে উঠত। কিন্তু এখন এটা প্রায় প্রতি সপ্তাহে ঘটে’।

বেজ ক্যাম্প সরানোর পরামর্শ দেওয়া কমিটির এক শীর্ষ সদন্য খিমলাল গৌতম বলেন, বেজ ক্যাম্পে বেশি মানুষের উপস্থিতি এই সমস্যায় ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা দেখেছি বেজ ক্যাম্পে মানুষ প্রতিদিন প্রায় চার হাজার লিটার প্রস্রাব করে। এছাড়া রান্না এবং গরম থাকার জন্য আমরা সেখানে যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি যেমন কেরোসিন এবং গ্যাস পোড়াই তা অবশ্যই হিমবাহের বরফের উপর প্রভাব ফেলবে’।

সৌন্দর্য দিয়ে যুগের পর যুগ পর্বতারোহীদের কাছে টেনেছে মাউন্ট এভারেস্ট

মাউন্টেন গাইড কোম্পানি অ্যালপেনগ্লো এক্সপিডিশনের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাড্রিয়ান ব্যালিঙ্গার সম্মত হয়েছেন এই পদক্ষেপটি যথোপযুক্ত। ভবিষ্যতে বর্তমান বেজ ক্যাম্পের এলাকায় আরও তুষারপাত, বরফের ধ্বস এবং পাথরের ধ্বস হবে বলেও নিজের ধারণার কথা জানান তিনি। ব্যালিঙ্গার বলেন, ‘এটি অভিযানের নেতাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত, কারণ এটি এড়ানো যেতে পারে।’

বেজ ক্যাম্প সরানোর প্রধান ত্রুটি হচ্ছে এটি বেজ ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প ওয়ান পর্যন্ত আরোহণের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে দেবে। যারা পর্বতে আরোহণ করবে তাদের জন্য পরবর্তী স্টেজিং পোস্ট হচ্ছে ক্যাম্প ওয়ান। বর্তমানে বেশিরভাগ পর্বতারোহী এখনও নেপালের দিক থেকে এভারেস্টে আরোহণ করে, কিন্তু চীন থেকে যাত্রা শুরু করার সংখ্যা বাড়ছে।

এসপিসিসি সদস্য তাসেরিং তেনজিং শেরপা বলেন, সমস্যা থাকা সত্ত্বেও, বর্তমান বেজ ক্যাম্প সাইটটি এখনও মূলত স্থিতিশীল এবং আরও তিন থেকে চার বছরের জন্য সেখানে কাজ চালিয়ে যাওয়া যাবে। তবে নেপালের কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০২৪ সাল নাগাদ বেজ ক্যাম্প সরানো হতে পারে।

নেপালের পর্যটন দফতরের মহাপরিচালক তারানাথ অধিকারী বলেন, ‘আমরা বেজ ক্যাম্পের প্রযুক্তিগত এবং পরিবেশগত দিকগুলি মূল্যায়ন করেছি, তবে আমরা এটিকে স্থানান্তর করার আগে আমাদের স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের সংস্কৃতির মতো অন্যান্য দিক বিবেচনা করে এটি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। আমরা সব মহলের সঙ্গে আলোচনা করেই করবো’।

সূত্র: বিবিসি

/জেজে/
কক্সবাজারে ২৯ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজারে ২৯ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজারের জনসভা মঞ্চে শেখ হাসিনা
কক্সবাজারের জনসভা মঞ্চে শেখ হাসিনা
ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে দুদকের কমিটি: দুদক সচিব
ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে দুদকের কমিটি: দুদক সচিব
নয়াপল্টনে বিএনপি সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
নয়াপল্টনে বিএনপি সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
সর্বাধিক পঠিত
রোনালদোর পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়ে হ্যাটট্রিক গোঞ্জালো রামোসের
রোনালদোর পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়ে হ্যাটট্রিক গোঞ্জালো রামোসের
বল ওনাদের কোর্টে, কী সমঝোতা বলবেন তারাই: মির্জা ফখরুল
নয়া পল্টনে গণসমাবেশের অনুমতি পাচ্ছে বিএনপি?বল ওনাদের কোর্টে, কী সমঝোতা বলবেন তারাই: মির্জা ফখরুল
প্রথম একাদশ থেকে বাদ, বেঞ্চে রোনালদো
প্রথম একাদশ থেকে বাদ, বেঞ্চে রোনালদো
যেটিই হোক সমঝোতা হবে: ওবায়দুল কাদের
সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎযেটিই হোক সমঝোতা হবে: ওবায়দুল কাদের
কলার বাগান থেকে উদ্ধার ২ লাশের পরিচয় মিলেছে, যা বলছে পরিবার
কলার বাগান থেকে উদ্ধার ২ লাশের পরিচয় মিলেছে, যা বলছে পরিবার