রাতের আঁধারে দেশ ছেড়ে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। বুধবার স্থানীয় সময় ভোর রাত তিনটায় মালে পৌঁছায় তাকে বহনকারী একটি সামরিক প্লেন। বুধবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার দিনভর বেসামরিক প্লেন ও সমুদ্র পথে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি।
অর্থনৈতিক সংকটে পড়া শ্রীলঙ্কার জনগণ দুর্ভোগের জন্য রাজাপাকসে পরিবারকে দায়ী করছে। গত শনিবার তার সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। এরপর থেকে মূলত আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।
ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বুধবার ভোরে মালের ভেলেনা বিমানবন্দরে পৌঁছায় গোটাবায়া রাজাপাকসেকে বহনকারী সামরিক প্লেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও দুই নিরাপত্তা প্রহরি। কলম্বোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের নিয়ে রওনা দেয় সামরিক প্লেনটি।
এনডিটিভি জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে সামরিক প্লেন দেওয়ার অনুরোধ করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। কর্মকর্তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হওয়ায় তাকে তা প্রদানে বাধ্য ছিলেন কর্মকর্তারা।
মালদ্বীপে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে, তার স্ত্রী ও দুই দেহরক্ষীকে গোপনস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসেকে পালিয়ে যেতে ভারত সহায়তা করেছে বলে ওঠা অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার ভারতীয় দূতাবাস। এক বিবৃতিতে তারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেছে তারা শ্রীলঙ্কার জনগনকে সমর্থন করা অব্যাহত রাখবে।
দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দায়মুক্তি পেয়ে থাকেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট। সেই কারণে পদত্যাগের আগেই দেশ ছাড়তে চেয়েছেন গোটাবায়া রাজাপাকসে। নতুন প্রশাসন তাকে গ্রেফতার করতে পারে এই আশঙ্কা ছিল তার।









