রাজধানী কলম্বোতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মূল শিবিরে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে লঙ্কান সেনা ও পুলিশ কমান্ডো। নামিয়ে ফেলা হয়েছে বিক্ষোভকারীদের বসানো তাঁবু।
কলম্বোর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোয় অনেকদিন ধরে অবস্থান করছিল তারা। শুক্রবার (২২ জুলাই) রাজধানীজুড়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক অভিযানে নামে সেনাসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আগের দিন (২১ জুলাই) শুক্রবার রনিল বিক্রমাসিংহে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার বিষয়টি আঁচ পাওয়া যায়। শপথ নেওয়ার পর বিক্রমাসিংহে স্পষ্ট করে বলেন, সরকার উৎখাতের কোনও চেষ্টা কিংবা সরকারি ভবন দখল করে নেওয়া গণতন্ত্র নয়। এই ধরনের কাজে যারা যুক্ত থাকবে, তাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।
এরই অংশ হিসেবে ভোর হওয়ার আগে, সেনা ও পুলিশ রাজধানী কলম্বোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে মূল প্রতিবাদ শিবিরটি খালি করে দেয়। গত ১০৪ দিন ধরে সেখানে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছিল বিক্ষোভকারীরা। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সেনা ও পুলিশ সদস্যরা মধ্যরাতের দিকে ট্রাক ও বাসে করে এসে তাঁবু অপসারণ করে। আন্দোলনকারীদের অনেকের অভিযোগ, ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে তারা। এতে আহত হয়েছেন অনেকে।
প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছিল, তারা শুক্রবার স্বেচ্ছায় আন্দোলনের মূল জায়গাটি খালি করে দেবে। একজন আইনজীবী বলেন, সশস্ত্র লঙ্কান বাহিনীর অভিযানে অনেক বিক্ষোভকারীকে আহত হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। গ্রেফতারের মধ্যে সাংবাদিক ও একজন আইনজীবীও রয়েছেন।
শ্রীলঙ্কাজুড়ে আর্থিক, জ্বালানি, ওষুধ, খাদ্য এবং রাজনৈতিক সংকটের জেরে কয়েক মাস ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ করে আসছে দেশটির সাধারণ মানুষ। সংকটের পেছনে সিঙ্গাপুরে পলাতক দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের সরকারকে দায়ী করে আন্দোলনকারীরা।
সূত্র: টাইম









