পাকিস্তানের বান্নু শহরে কাউন্টার টেরোরিজমের একটি বন্দিশালায় অবস্থান নেওয়া ৩৫ জঙ্গির মধ্যে ২৫জনকে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। সেন্টারটি জঙ্গিমুক্ত করার অভিযানের সময় এক জিম্মি এবং দুই কমান্ডো নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
কাউন্টার টেরোরিজমের এই বন্দিশালায় জঙ্গিদের রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হত। রবিবার সেখানে অবস্থানরত জঙ্গিরা কর্মকর্তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে বন্দিশালার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর ফলে দুই দিনের জিম্মি দশা দেখা দেয়। মঙ্গলবার সেখানে অভিযান চালায় সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ টুইটারে লিখেছেন, জঙ্গিদের পুনর্জন্ম আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমাদের সাহসী নিরাপত্তাবাহিনী এই হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আহমেদ শরিফ মঙ্গলবার বলেছেন, বন্দিশালা দখলে নেওয়া ৩৫ জঙ্গির মধ্যে সাতজন আত্মসমর্পণ করেছে। তিনজনকে পালানোর সময় গ্রেফতার করা হয়েছে। সেখানে জিম্মি থাকা এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা অভিযানের সময় নিহত হয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, সব জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং সব জিম্মিদের মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু পরে তিনি চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য সংশোধন করেছেন।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের মন্তব্য জিম্মি দশা নিয়ে প্রথম বিস্তারিত সরকারি মন্তব্য। জঙ্গিরা বন্দিশালার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় নিরাপত্তাবাহিনীর দুই সদস্যকে হত্যা করেছিল। অভিযানের সময় আরও দুই কমান্ডো নিহত হয়েছে।
মুখপাত্র বলেছেন, এক জঙ্গি তাকে জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তাকে ইট দিয়ে পরাস্ত করে তার অস্ত্র কেড়ে নেয়। পরে অপর জঙ্গিরা বন্দিশালার গুদাম ভেঙে অত্যাধুনিক অস্ত্র বের করে নেয়।
তিনি বলেন, শর্তহীনভাবে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি। জঙ্গিরা নিরাপদে আফগানিস্তানে যাওয়ার দাবি করেছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
জঙ্গিদের সঙ্গে দুই দিনের অচলাবস্থা আলোচনায় সমাধানে ব্যর্থ হওয়ার পর মঙ্গলবার অভিযান চালায় সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা। এতে দশ সেনা ও তিন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
অভিযানে তুমুল লড়াই হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র। স্থানীয় বাসিন্দারা বন্দিশালা থেকে বিস্ফোরণ ও আকাশে হেলিকপ্টার ওড়ার কথা জানিয়েছেন।
বন্দিশালা দখল করা জঙ্গিদের বেশিরভাগ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্য। আফগান তালেবানের সঙ্গে টিটিপির সম্পর্ক রয়েছে।









