ফিলিপাইনের গত কয়েক মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। রাজধানী ম্যানিলার সুপারমার্কেটে এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ পেসোতে। যা ১৫ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬০০ টাকা। এত চড়া দামের কারণে এখন দেশটিতে মুরগি বা শুকরের চেয়ে দামি পণ্য হয়ে গেছে পেঁয়াজ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য কথা জানা গেছে।
খবরে বলা হয়েছে, কয়েকটি রেস্তোরাঁ তাদের রান্নার উপকরণ থেকে পেঁয়াজ বাদ দিয়ে দিছে। আর ১৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক পরিবার বাদ দিয়েছে পেঁয়াজ খাওয়া।
মানুষের নাগালের মধ্যে পেঁয়াজের দাম রাখার লক্ষ্যে সরকার ২১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। সরকার চাইছে ২০০ পেসোর মধ্যে পেঁয়াজের দাম নিয়ে আসার জন্য। একই সঙ্গে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিও জোরালো হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত দাম কমার কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক মৌসুম শুরুর আগেই পেঁয়াজ চাষ শুরু করে দিচ্ছেন।
৩৭ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলস নামের কৃষক বলেন, যা ঘটছে তা ঐতিহাসিক। এই প্রথম পেঁয়াজের দাম এত বেশি।
তিনি বলছেন, গত মাসে পেঁয়াজ চাষ শুরুর সময় প্রতি কেজি ২৫০ পেসোতে বিক্রি করেছেন। কিন্তু যখন তার পেঁয়াজ ম্যানিলার সুপারমার্কেটে পৌঁছায় তখন সেগুলোর দাম দ্বিগুণের বেশি হয়। যা একজন শ্রমিকের দৈনিক ন্যূনতম মজুরির চেয়ে বেশি।
বিভিন্ন বাজারে ছোট আকারের একেকটি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ পেসোতে। বাজারের হাঁটতে থাকা ৫৬ বছর বয়সী ক্যান্ডি রোয়াসা বলেন, আমি পরিবারকে বলেছি চলো পেঁয়াজ খাওয়ার বদলে গন্ধ শুকি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেঁয়াজ নিয়ে বিভিন্ন মিম প্রকাশিত হচ্ছে। মূল্যস্ফীতিতে আক্রান্ত দেশটিতে পেঁয়াজকে এখন বিত্তের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্তত এক কনে তার বিয়ের সংবর্ধনায় ফুলের বদলে দামি পেঁয়াজের তোড়া ব্যবহার করেছেন।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ফিলিপাইন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের ক্রুরা কয়েক ব্যাগ পেঁয়াজ পাচারের সময় ম্যানিলা বিমানবন্দরে ধরা পড়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুসারে, ফিলিপাইনের মানুষেরা গড়ে প্রতি বছর ২ কেজি ৩৪০ গ্রাম পেঁয়াজ খেয়ে থাকেন। তাত্ত্বিকভাবে দেশটিতে চাহিদা মেটানোর মতো পেঁয়াজ উৎপাদন হয়।
কিন্তু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুর কারণে বছরে একবার পেঁয়াজ চাষের সুযোগ পান দেশটির কৃষকরা। পরের বার চাষের আগ পর্যন্ত মজুত করা পেঁয়াজই চলে সারা বছর। কিন্তু কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর খাবারভিত্তিক উৎসব, বড়দিনে পারিবারিক আয়োজন বাড়ার কারণে পেঁয়াজের চাহিদাও বাড়ে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তের প্রশাসনের কৃষি সচিব উইলিয়াম দার বলেছেন, বর্তমান সরকার আগস্টে আমদানির অনুমতি দিলে পেঁয়াজের ঘাটতি মেটানো যেত। দুর্বল পরিকল্পনার ফলাফল হলো এই সংকট।









