ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর যৌথ বিবৃতিতে চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতায় ভেস্তে গেছে ভারতে অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) ভারতের নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম বিশটি অর্থনীতির জোট জি-২০ সম্মেলনে ‘ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে রুশবাহিনীর নিঃশর্ত ও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার’ নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে চীন ও রাশিয়া ছাড়া অংশগ্রহণকারী বাকি দেশগুলো একমত ছিল।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যৌথ বিবৃতি দিলে তাতে অস্বীকৃতি জানায় রাশিয়া। রাশিয়াকে পুরোদমে সমর্থন করে চীন।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে উদ্দেশ করে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বন্ধ করুন, ইউক্রেনীয় শহর ও বাসিন্দাদের ওপর বোমা হামলা বন্ধ করুন।’
বেয়ারবকের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনকে ক্রমাগত অস্ত্র সহায়তা দেওয়ায় পশ্চিমা বিশ্বকে পাল্টা দোষারোপ করেন ল্যাভরভ।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, ইউক্রেনে রাশিয়ার অন্যায় যুদ্ধ, বেসামরিক অঞ্চলে হামলা এবং জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি লঙ্ঘনের কারণে বৈঠকটি আবারও বিঘ্নিত হলো।’
আলোচনায় একমাত্র দেশ হিসেবে রাশিয়াকে সমর্থন করে বক্তব্য রাখে চীন। তবে সম্প্রতি রাশিয়াকে চীনের অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও নাকচ করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাও নিং। ইউক্রেনকে ক্রমাগত অস্ত্র সহায়তা দিয়ে যুদ্ধকে জিইয়ে রাখার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করেন তিনি। এছাড়া তাইওয়ানকে সমর্থন করে চীনের সার্বভৌমত্বে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অভিযোগও করেন মাও।
বেইজিংয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যঙ্গ করে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চায়। আবার বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতকে উসকেও দেয়।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এ বিষয়ে বলেন, ‘বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন মত থাকায় ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে বহুপাক্ষিকতাকে দৃঢ় করণ, খাদ্য ও জ্বালানী নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও সন্ত্রাস দমনের মতো বিষয়গুলোতে সদস্য দেশগুলো ঐকমত্যে পৌঁছায়।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ভিডিও বার্তায় খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঐকমত্য আছে এমন অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বর্তমানের এই উত্তেজনাকে না আনার আহ্বান জানান জি-২০ সদস্যদের প্রতি।
তবে বৃহস্পতিবারের আলোচনা শুরুর আগেই বৈঠক বিষয়ে মার্কিন নীতির সমালোচনা করেছিল রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সূত্র: আল জাজিরা









