তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দ্বীপটির চারপাশে তিনদিনের সামরিক মহড়া শেষ করেছে চীন। এই সামরিক মহড়া নিয়ে উত্তেজনার একদিন পরই ফিলিপাইনের সঙ্গে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলবে মহড়াটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া মহড়ায় দুই দেশের ১৭ হাজারের বেশি সেনা অংশ নেবে। এর মধ্যে ১২ হাজার যুক্তরাষ্ট্রের এবং ফিলিপাইনের ৫ হাজার ৪০০ সেনা।
অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর শতাধিক সদস্য সদস্য মহড়ায় অংশ নেবে। এই মহড়ায় উপস্থিত থাকবেন ১২ দেশের পর্যবেক্ষক। আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।
ফিলিপিনো এবং মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এই মহড়া উন্মুক্ত এবং মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির প্রদর্শন।
দুই দেশের কর্মকর্তারা বলছেন, এই মহড়াকে তাইওয়ানকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত হবে না।
ওয়াশিংটন ও ম্যানিলার এই মহাড়ার আগেই নির্ধারিত ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির সঙ্গে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়। চুক্তিতে ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে চারটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করার কথা উল্লেখ রয়েছে। ফিলিপাইনের চারপাশে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আশেপাশের জলপথগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে চীন। এই সুযোগে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপের উত্তরের তিনটি সামরিক ঘাঁটি তাইওয়ানের কিছুটা কাছাকাছি অবস্থিত, ফলে চীনেরও কাছাকাছি।
তাইওয়ানের চারপাশে তিনদিন ধরে চলা সামরিক মহাড়ায় রণতরি, যুদ্ধজাহাজ, বিমান থেকে গোলাবর্ষণ করে মহড়া চালিয়েছে চীন। যা শেষ হয়েছে সোমবার। মহড়া সফল হয়েছে বলে দাবি বেইজিংয়ের। একই সঙ্গে মহড়ায় প্রকৃত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশটির বিভিন্ন বাহিনীর সক্ষমতা যাচাই করে দেখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে বেইজিং। তাইওয়ানের প্রতি হুঁশিয়ারি জানিয়ে চীনা সেনাবাহিনী বলেছে, তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনও চেষ্টা রুখে দেওয়া হবে।
এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস মিলিয়াস যুদ্ধ জাহাজকে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের কাছ দিয়ে পাঠিয়েছে। যা ফিলিপাইনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত। কিন্তু বেইজিং নিজেদের বলে দাবি করে আসছে অঞ্চলটিকে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের সামরিক সহযোগিতার নামে জলসীমা নিয়ে বিরোধে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
সূত্র: বিবিসি









