চীনে পর্যটকরা একটি বিশালাকার থার্মোমিটার ঘিরে ভীড় করেছেন, সেখানে তাপমাত্রা দেখাচ্ছে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দক্ষিণ কোরিয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বুধবার পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। তীব্র আবহাওয়া বিশ্বজুড়ে যে বিপর্যয় ও কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে তার সর্বশেষ নমুনা এই দুটি ঘটনা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গ্রিসের রাজধানী অ্যাথেন্সের পশ্চিমাঞ্চলে তৃতীয় দিনের মতো জ্বলছে দাবানল। বুধবার ভোরে আলো দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু করে রাত পর্যন্ত দমকলবাহিনীর কর্মীরা উপকূলীয় শোধনাগার থেকে আগুনের উত্তাপ দূরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
গত কিছু দিনের প্রবণতার উল্টো পথে গিয়ে মার্কিন জলবায়ু দূত জন কেরি চীনা কর্মকর্তাদের তৃতীয় দিনের মতো বৈঠকে বসেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করছেন, দুই পরাশক্তির সহযোগিতায় বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলার মাধ্যমে তাদের সম্পর্কের টানাপড়েন দূর হবে।
বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের ধারায় ইউরোপ, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশ পুড়ছে। যা পুরো বিশ্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেছে, উচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
এদিকে, হাওয়াইয়ের একটি দ্বীপ মৌসুমি ঝড় কালবিনের আঘাতের অপেক্ষা করছে। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে, এই ঝড়ের সঙ্গে ৮ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া দেখা দিতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় গত সপ্তাহ থেকে মধ্যাঞ্চলীয় ও দক্ষিণাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত। মধ্যাঞ্চলীয় শহর চিওঙ্গজুতে ১৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সেখানে এক ডজনের বেশি গাড়ি আটকা পড়েছিল। দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটিতে চলতি বছরের মৃত্যুর ঘটনায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে গত বছর ভয়াবহ বন্যার পরও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সমালোচনা তীব্র হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইওল বলেছেন, পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে কারণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আইন মানতে ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার তিনি ১৩টি বন্যা কবলিত এলাকাকে বিপর্যস্ত অঞ্চল বলে ঘোষণা করেছেন।
চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে মাথায় হ্যাট ও ছাতা দিয়ে একটি বিশাল থার্মোমিটারের সামনে সেলফি তুলছেন। প্রতি গ্রীষ্মে কৌতুহলী পর্যটকরা এখানে জড়ো হন।
সম্প্রতি জিনজিয়াং ও এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চল, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে তাপমাত্রার বৃদ্ধি রেকর্ড ভাঙছে। সোমবার জিনজিয়াংয়ের টুরপান শহরে বাতাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চিল ৫২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চীনের জাতীয় রেকর্ড হলো ৫০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এই অভূতপূর্ব তাপমাত্রা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করার জন্য বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর জন্য নতুন তাগাদা যুক্ত করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, গুরুতর এবং প্রাণঘাতী হতে পারে।









