ভারতজুড়ে সদ্য চালু হওয়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তনের দাবি তুলে সোচ্চার হলেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির উদ্বাস্তু বিধায়করা। তাদের দাবি, বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি তাতে হিন্দুদের রক্ষা করতে গেলে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত সিএএ-র ভিত্তিবর্ষ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ সালের পরিবর্তে ২০২৪ সাল পর্যন্ত করা হোক।
সর্বভারতীয় স্তরে উদ্বাস্তু আন্দোলনের নেতা তথা কল্যানীর বিজেপির বিধায়ক আইনজীবী অম্বিকা রায় এই দাবি করে বলেন, ‘এটি আমাদের সমগ্র উদ্বাস্তু সমাজের দাবি। যে সমস্যার কারণে এই আইনটি সংশোধন করা হয়েছে, সেই সমস্যা আজও চলছে। বাংলাদেশে যেকোনও রাজনৈতিক পালাবদল শুধু নয়, প্রত্যেক বছরই কমবেশি হিন্দুদের ওপর হামলা, মন্দির-প্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। তাই যারা ওপার থেকে ভিটে-মাটি ছেড়ে আসছেন তারা কী করবেন? তারা তো আর বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারবেন না। তাই সিএএ-র যে সময়সীমা ছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪, তা বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত করা হোক। আমি মনে করি, বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটি ভেবেই, আমাদের কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বও এ বিষয়ে সহমত হবেন। এখন যারা চলে এসেছেন বা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যেকোনোভাবে যারা এ দেশে চলে আসবেন তারা কোথায় যাবেন? সেকথা ভেবেই ভিত্তিবর্ষের তারিখ পরিবর্তন সময়ের প্রয়োজনেই জরুরি হয়ে পড়েছে।’
আইনজীবী অম্বিকা রায় আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত সংসদে একটা সংশোধনী এনে অবিলম্বে সিএএ-র ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তন করা। এটাতে কোনও আইনি সমস্যার হওয়ার কথা না। সংসদে এটা পাস করিয়ে নেওয়া সম্ভব। সেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা আমাদের সংসদের উভয় কক্ষেই আছে। তাছাড়া আমি মনে করি, এ নিয়ে বিরোধী দলগুলোও কোনও বাধা দেবে না। কারণ তারা বর্তমান অবস্থাটা দেখছেন। বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন এমনটাই জানিয়েছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার নোটিফিকেশন জারি করে করতে পারে। সেক্ষেত্রে আদালতে কেউ যেতে পারেন, সেটি তখন আদালতের রায়ে ঠিক হবে। আমার মনে হয়, যারা সিএএ-র বিরোধিতা করেছিলেন তারাও এখন মানবিকতার প্রশ্নে এই পরিবর্তনকে সমর্থন করবেন।’
একইভাবে অম্বিকা রায়ের বক্তব্যের সমর্থনে সোচ্চার হয়েছেন হরিনঘাটার বিজেপির বিধায়ক কবিয়াল অসীম সরকার। যিনি উদ্বাস্তু আন্দোলনের নেতৃত্বে হিসেবে পরিচিত আবার বঙ্গ বিজেপির উদ্বাস্তু সেলের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘ভিত্তিবর্ষের পরিবর্তনের দাবিতেই এখন আন্দোলন করতে হবে। বর্তমান বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি আমরা দেখতে পাচ্ছি, ওখানের হিন্দুরা অকারণে নির্যাতিত ও ধর্ষিত হচ্ছেন। বাংলাদেশে কে প্রধানমন্ত্রী থাকবে, কোন সরকার আসবে, কোন সরকার থাকবে না, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়। সেখানে হিন্দুদের মারতে হবে, এটি কেমন কথা? এজন্য আমার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন, যেহেতু দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগ হয়েছে, তাই আমি দাবি রাখছি, বাংলাদেশে যত হিন্দু আছে কোনও ভিত্তিবর্ষ নয়, যেদিনই তারা আসবেন সেদিনই ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আপাতত এটি ২০২৪ পর্যন্ত করা হোক। এ জন্য কোনও জটিল শর্ত নয়, যে আসবে তার হিন্দু পরিচিতি ও নিজস্ব ঘোষণা দিলেই নাগরিকত্ব দেওয়া হোক।’
বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন নিয়ে অবিলম্বে সর্বদলীয়ভাবে বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাবেরও দাবি তুলেছেন বিজেপির উদ্বাস্তু বিধায়করা। বাংলাদেশের হিন্দুদের সমর্থনের পাশাপাশি তাদের পাশে পশ্চিমবঙ্গ আছে সেটি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্যও এই প্রস্তাব আনা হোক এমনটাই বলছেন তারা।
অম্বিকা রায় বলেন, ‘আমি এই প্রস্তাব দেওয়ার জন্য বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে আহ্বান করব। নাহলে আমরা এটি আনার চেষ্টা করব বিধানসভায়। যদিও তৃণমূল এ নিয়ে এখনও কোনও প্রতিবাদ জানায়নি। আমরা আশাও করি না।’
অসীম সরকার বলেন, স্পিকারের উচিত অবিলম্বে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে সর্বদলীয় নিন্দা প্রস্তাব আনা। নিহত হিন্দুদের স্মরণ করে শোক পালন করা হোক বিধানসভায়। এতে তৃণমূল সরকারেই মুখ উজ্জ্বল হবে।’









